খাওয়ার প্রতি অনীহা প্রায় সব শিশুদের মধ্যেই দেখা যায়। এমন সব খাবারের
প্রতি তারা আগ্রহী যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এসব হয়তো তারা শেখে আপনার
কাছ থেকেই। কারণ শিশুরা অনুকরণ প্রিয়। তাই জেনে নিন কিছু পরামর্শ যা আপনার
শিশুকে স্বাভাবিক এবং পুষ্টিকর খাবারের দিকে আগ্রহী করে তুলবে।
সবজি কেনার সময় তাকে সাথে নিনঃ
আপনার শিশুকে সাথে নিয়ে বাজারে যান। তাকে
জিজ্ঞেস করুন কোন সবজিটি দেখতে সুন্দর বা কোনটি তার দেখতে ভাল লেগেছে,
সেটাই কিনুন। এবং রান্নার পর জানান যে এটিই সেই সবজি যা সে পছন্দ করেছিলো।
খাবার রান্নার সময় পাশে রাখুন শিশুকেঃ
শিশুকে খাওয়াতে চান এমন কোন খাবার রান্নার
সময় তাকে পাশে রাখুন। হতে পারে তা সপ্তাহে একদিন। কারণ রান্নার প্রক্রিয়া
তাকে তা খাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলবে। তার হাতে কিছুটা সবজি বা মশলা
তুলে দিয়ে বলুন তা রান্নার পাত্রে রাখতে।
পরিবারের সবাই একসাথে খাবার খানঃ
শিশুরা অনুকরণ প্রিয়। সে তাই ই করে যা তার
আশে পাশের সবাই করছে। পরিবারের সবাই মিলে খেতে বসুন এবং স্বাস্থ্যের পক্ষে
উপকারী খাবার খান। এতে আপনার শিশু নিজের অজান্তেই পুষ্টিকর খাবারে অভ্যস্ত
হয়ে উঠবে।
খাবার নিয়ে তার সাথে আলোচনা করুনঃ
খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়ে আপনার শিশুর সাথে
আলোচনা করুন। কোন খাবারটি ভাল আর কোন খাবারটি খারাপ তা বলার পরিবর্তে তাকে
শেখান কোন খাবারে তার দেহ কেমন উপকার পেতে পারে। কিছু খাবার তাকে লম্বা হতে
সাহায্য করবে, কিছু তাকে অন্যদের চেয়ে শক্তিশালী করে তুলবে, কিছু খাবার
তাকে দ্রুত দৌড়াতে সাহায্য করবে এভাবে জানালে শিশু সেসব খাদ্যের প্রতি
আকৃষ্ট হবে।
সবজিখাওয়ার জন্য শিশুকে পুরস্কৃত করবেন নাঃ
অনেকেই তার শিশুকে আশ্বাস দেয় সবজি খেলে
তাকে পুরষ্কার হিসেবে চকলেট বা আইসক্রিম পুরষ্কার হিসেবে দেয়া হবে। এতে
শিশুর মনে এই ধারনা গেঁথে যায়, চকলেট বা আইসক্রিম শাক সবজির চেয়ে বেশি
ভালো। তাই এই ধরণের প্রবণতা এখনই ত্যাগ করুন।
শিশুকে কখনোই খাওয়ার জন্য জোর করবেন না।
হতে পারে তার আর খাওয়ার ইচ্ছা নেই বা সে ক্ষুধার্ত নয়। তাকে খেলাধুলার
সুযোগ দিন। এতে তার পরিশ্রম হবে এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পাবে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন