শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৬

ওজন কমাতে খান ভাতের বদলে সালাদ!


ভাজাপোড়া অনেক খেয়েছেন এবার খেতে হবে সালাদ। ডায়বেটিস না থাকলে ইচ্ছামতো তিন বেলা এই সালাদ খেতে পারেন আপনি। সালাদ কিন্তু একটি আস্ত মিল। এটি খেলে আপনাকে আর কিছুই খেতে হবে না। ভাত, মাছ, তরকারির ঝামেলা থেকেও আপনি অনায়াসে মুক্তি পেতে পারেন সালাদ অভ্যাসে। সেক্ষেত্রে রাশিয়ান সালাদ হলে দারুণ হয়। এই সালাদে আলু থাকে বলে কার্বোহাইড্রেটের অভাবটি অনুভূত হয় না। সঙ্গে থাকছে মজাদার পুষ্টিকর ফল। প্রোটিনের অভাব পূরণ করবে ডিম। আর এর সাথে ওজনও কমবে। তাই চটপট বানিয়ে ফেলুন এই সালাদ।
উপকরণ
সেদ্ধ ডিম-১টি
সেদ্ধ মটরশুটি-১/২ কাপ
আলু ১ কাপ
গাজর ১/২ কাপ
শসা ১/২কাপ
আনারস ১/২ কাপ
আপেল ১/২ কাপ
আঙ্গুর ১০টি
লবণ স্বাদমতো
মেয়নেজ -১ টেবল চামচ
লেবুর রস ২ চা চামচ
গোলমরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ
সরিষা গুঁড়া ১ চা চামচ
চিনি ১ চা চামচ
রাশিয়ান সালাদ-১
প্রণালী
আলু, গাজর খোসা ছাড়িয়ে ছোট চৌকো টুকরা করে আলাদা সিদ্ধ করে রাখুন। শসা, আনারস, আপেল, আলুর মতো টুকরা করে রাখুন। সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে ফ্রিজে রাখুন ২০ মিনিট। ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা খেয়ে নিন রাশিয়ান সালাদ।

“ভেজিটেবল এগ ফ্রাইড রাইস”


উপকরণঃ
✿– ৭৫০ গ্রাম পোলাওর চাল/বাসমতি চাল
✿– ১/৪ কাপ গাজর
✿– ১/৪ কাপ ক্যাপ্সিকাম
✿– ১/৪ কাপ মটর শুটি
✿– ১/৪ কাপ বরবটি
✿– ১/৪ কাপ পেঁয়াজ পাতা কুঁচি
(সবজি নিজের পছন্দ মতন নিতে পারে। সব না পেলে যে কোনো দুটি নিলেও হবে)
✿– ৩ টা ডিম
✿– ৪ টা কাচা মরিচ
✿– ১ টেবিল চামচ আদা বাটা
✿– ১ কাপ পেঁয়াজ কুচি
✿– ৪ টেবিল চামচ সয়াসস
✿– ২ টেবিল চামচ ওয়েস্টার সস
✿– ৪ টেবিল চামচ টমেটো সস
✿– ১/২ কাপ তেল
✿– ১ চা চামচ চিনি
✿– ১/২ চা চামচ স্বাদ লবন
✿– লবন পরিমাণ মতো
✿– পানি পরিমাণ মত


প্রণালীঃ
►– পানি ফুটিয়ে নিন। ফুটন্ত পানিতে লবণ ও ধুয়ে রাখা চাল দিন। নেড়ে দিন কিছুক্ষণ পর পর। চাল ৭৫ ভাগ সেদ্ধ হয়ে গেলে নামিয়ে নিন। পোলাও চাল হলে ১০ মিনিটের মতন লাগবে।
►– ঝাঁঝরিতে ভাত ঢেলে ছড়িয়ে নিন। ঠান্ডা পানি দিয়ে ভাত ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। হাল্কা তেল মাখিয়ে রাখুন ভাতে।
►– গাজর, ক্যাপ্সিকাম ও মটরশুটি ছোট চারকোনা করে কেটে নিন।
►– কড়াইতে তেল দিয়ে ডিম ঝুরা করে ভেজে নিন। ও তুলে রাখুন।
►– এবার তেলে পেয়াজ কুচি ও আদা বাটা দিয়ে দিন। সবজি গুলো দিয়ে দিন ও সামান্য লবন-চিনি দিয়ে ভাজুন। সবজি পানি ছেড়ে দিবে ও পানি শুকিয়ে ভাজা ভাজা হয়ে যাবে। এবার ডিম দিন ও ভাজুন।
►– এবার কড়াইয়ে সেদ্ধ করা চাল দিয়ে দিন।
►– ওয়েস্টার সস, সয়াসস, টমেটো সস, গোলমরিচ, স্বাদ লবন, চিনি ও লবণ দিয়ে ভালো করে নেড়ে-চেড়ে মিশিয়ে নিন।
►– সব শেষে কাঁচা মরিচ দিয়ে ভাজা ভাজা হলে নামিয়ে ফেলুন।
►– দুপুরের অথবা রাতের খাবারে চিকেন ফ্রাই দিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার ভেজিটেবল এগ ফ্রাইড রাইস। সাথে চলতে পারে পছন্দ সই যে কোনো কারি আইটেমও।

প্রকৃতি থেকে যে জীবন শিক্ষাগুলো নেয়া উচিত

প্রকৃতির মাঝে মিলেমিশে একাকার হয়ে যেতে ইচ্ছে করে কোথাও বেড়াতে গেলে। প্রকৃতির প্রতি এই অকৃত্রিম ভালো লাগা অনেকেরই আছে। আর এই ভালো লাগার পেছনে অনেকগুলো কারণও আছে। আর তা হলো প্রকৃতির আছে কিছু অতুলনীয় গুণ। আর এই গুণগুলোই মানুষকে আকর্ষণ করে।

প্রকৃতির কাছ থেকে কিছু শিক্ষা মানুষেরও নেয়া উচিত। তাতে জীবনের চলার পথটাকে অনেকটাই সহজ ও অকৃত্রিম মনে হবে। জেনে নিন,  প্রকৃতি থেকে যে জীবন শিক্ষাগুলো নেয়া উচিত সেগুলো সম্পর্কে।

ভাঙ্গা-গড়া

যখন প্রচন্ড ঝড় ওঠে সমুদ্রে, তখন বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে সাগর তীরের সব গাছপালা তছনছ করে দেয়। কিন্তু ঝড় থেমে গেলেই আবার সব ধীরে ধীরে থেমে যায়। মানুষের জীবনেও কিছু কঠিন সময় পার করতে হয় অনেক সময়। সম্পর্কের টানাপোড়েন, চাকরীর সমস্যা, প্রিয়জনকে হারানো ইত্যাদি নানান কারণে অনেকে হতাশাগ্রস্ত হয়ে যায়। কেউ কেউ আত্মহত্যাকেও বেছে নেয়। কিন্তু সবই সাময়িক। সময়ের সাথে সাথে সব কিছু প্রকৃতিরমতই ঠিক হয়ে যায়। আর তাই জীবনের খুব কঠিন সময়টাতে প্রকৃতির এই ভাঙ্গা-গড়া থেকে সাহস সঞ্চয় করে এগিয়ে যেতে হবে।

সহনশীলতা শেখা

ইংরেজিতে একটা কথা আছে ‘সারভাইভাল ফর দ্যা ফিটেস্ট’। যে কোনো পরিস্থিতে মানিয়ে নিয়ে নিজেকে অভ্যস্ত করে তোলার এই গুণটা প্রকৃতির থেকে শেখা উচিত মানুষের। গভীর জঙ্গলে কিংবা ধু-ধু মরু এলাকায় পশুপাখি কিন্তু ঠিকই তার খাবার খুঁজে নিতে পারে। কিন্তু মানুষ একটুতেই ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলে এবং সহজেই হাল ছেড়ে দেয়। তাই প্রকৃতির থেকে মানুষের সহনশীলতা শেখা উচিত।

সামান্যকে অসামান্য করে দেখা

ইকোলজিক্যাল সাইকেলটা ভালো করে খেয়াল করলেই দেখা যায় যে, খুব ছোট ছোট বিষয়ও অনেক গুরুত্বপূর্ন। ছোট একটি বিষয়কে অগ্রাহ্য করলে অনেক বড় সমস্যা হতে পারে। আর এই শিক্ষাটা মানুষের জীবনের ক্ষেত্রেও নেয়া উচিত। বিশেষ করে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক ছোট-খাটো বিষয়কে আমরা এড়িয়ে যাই যা পরে অনেক বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

নিজেকে মেলে ধরা

প্রকৃতি নিজেকে মেলে ধরতে পছন্দ করে। নিজের গুণ, সৌন্দর্য, স্বভাব নিয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকাটাও প্রাণীজগতের কাছ থেকে শিক্ষণীয় একটি বিষয়। অনেক মানুষই আছেন যারা নিজেকে নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগেন। আর তাই কারো সাথে না মেশা, নিজের মেধা প্রকাশে ভয় পাওয়া এবং নিজের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলার মতো সমস্যা দেখা দেয়। প্রকৃতির কাছ থেকে নিজেকে মেলে ধরে মেধা বিকাশ শিখুন।

শূন্য থেকে শুরু করা

শীতে ঘাস একদম শুকিয়ে যায়। তখন মনে হয় হয়তো কখনোই আর সবুজ হয়ে উঠবে না মাঠ। ঠিক একইভাবে গাছের পাতাও ঝরে যায়। কিন্তু শীত শেষে আবার সব সবুজ হয়ে যায়। অনেক সময়ে সব হারিয়ে মানুষ শূন্য হয়ে যায়। আর তখন মনে করে শূন্য থেকে আবার সবকিছু ফিরে পাওয়া সম্ভব না। কিন্তু প্রকৃতিকে দেখে মানুষ শূন্য থেকে আবার সব ফিরে পাওয়ার সাহস পেতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

শিশুর হাতের লেখা সুন্দর করতে চান তাহলে বিস্তারিত…

সোনামণিটা মুখে মুখে শিখে গেছে অনেক পড়া। এবার লেখার পালা। খাতা কলম হাতে নিয়ে বসে যা লিখছে, তা দেখে আপনি রীতিমতো হতবাক। অক্ষর গুলো একেকটা একেক রকম। হাতের লেখার কারণে ক্লাস পরীক্ষাতেও খারাপ ফল হচ্ছে। দুয়েকটা ক্লাস পার হয়ে গেলেও কোনো ভাবেই তার হাতের লেখা সুন্দর হচ্ছে না। শুধু শিশু নয় উপরের ক্লাসের অনেকেরই হাতের লেখা খুবই অসুন্দর হয়। হাতের লেখা অসুন্দর হওয়াটায় এখন আপনার চিন্তার বিষয়। এমন চিন্তা দূর করতে প্রয়োগ করতে পারেন কিছু উপকারী কৌশল। আসুন দেখে নেয়া যাক কীভাবে আপনার শিশুর হাতেও মুক্তঝরা লেখা হতে পারে।

– সোনামণির খাতায় প্রথমত এক লাইন সুন্দর করে অক্ষর লিখে দিতে হবে। ওটা দেখে লাইন ধরে লেখার অভ্যাস করবে।

– প্রত্যেকটি অক্ষরের স্টাইল কেমন হবে তা আপনিই ঠিক করে দিন। শিশু সেটা দেখেই রপ্ত করবে। বড়রাও পছন্দের কোনো লেখা দেখে প্রতিটি অক্ষরের স্টাইল ঠিক করে নিতে পারেন। এতে লেখা সুন্দর হবে।

– এক প্যারা থেকে আরেক প্যারার মাঝে এক ইঞ্চি ফাঁকা রাখার অভ্যাস করাতে হবে। এতে লেখা ভালো দেখায়।

– বায়ে এবং ওপরে সোয়া এক ইঞ্চি ফাঁকা রাখলে হাতের লেখা সুন্দর দেখায়।

– বাচ্চাদের খাতার পুরো লাইন ভরে লেখানো উচিৎ।

– প্রতিটি বর্ণ যেন সমান হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

– বাচ্চাদের লেখার সময় কলম বা পেন্সিল ধরাটা ঠিকভাবে শেখাতে হবে। পেন্সিলের শিষ থেকে এক ইঞ্চি দূরত্বে ধরলে লেখা ভালো হবে।

– সঠিক উচ্চতার চেয়ার-টেবিলে বসে লিখলে লেখা সুন্দর হয়।

– প্রাথমিক পর্যায়ে বর্ণগুলো সোজা করে লিখতে হবে।

– তিনকোনা বর্ণগুলো সবচেয়ে সোজা। আগে সে অক্ষরগুলো থেকে লেখা অনুশীলন শুরু করতে পারে। যেমন-ব,ক।

– খাতায় বর্ণে আকারে ফোঁটা দিয়ে দিন। শিশুকে তার উপর হাত ঘুরিয়ে বর্ণ লেখা অনুসরণ করান। তাহলে তার জন্য বেশি সহজ হবে।

– সবার আগে প্রয়োজন শিশুকে অক্ষর চেনানো। অক্ষর না চিনলে সে লিখতে পারবে না। সঙ্গে সঙ্গে কোন অক্ষরে মাত্রা নেই, কোনটাতে অর্ধমাত্রা সেটিও মুখস্থ করিয়ে দিন।

– কোন বর্ণে মাত্রা আছে, কোনটায় অর্ধমাত্রা ইত্যাদি ভালোমতো জেনে সে অনুযায়ী অনুশীলন করাতে হবে। লেখা আপনিতেই সুন্দর হবে।

– সাদা খাতায় শিশুকে উপর থেকে নিচে লাইন টানতে দিন। এতে শিশুর খাতার দিকে মনোযোগ দেয়ার অভ্যাস তৈরি হবে। এ ছাড়া সুন্দর একটি অক্ষর লিখে তার ওপর শিশুকে হাত ধরে ঘুরিয়ে লেখালেও অক্ষরের আকার সম্পর্কে ধারণা সুস্পষ্ট হয়।

দারুণ স্বাদের ভাপা সন্দেশ বানান সহজেই

বাঙালির মিষ্টিমুখ বরাবরই একটু বেশি। তাই যে কোনও অজুহাতেই মিষ্টি খাওয়ার বাহানা খুঁজে নেয় সহজেই। আজ আপনাদের জন্য রইল সহজ উপায়ে ভাপা সন্দেশ তৈরির পদ্ধতি। তাই আর দেরি না করে চটপট বানিয়ে ফেলুন ভাপা সন্দেশ।

উপকরণ-

ছানা ২৫০ গ্রাম
ঘন ক্ষীর ২৫০ গ্রাম
কিশমিশ ২৫ গ্রাম
গুঁড়ো চিনি ১ কাপ
পেস্তা বাদামের কুচি ইচ্ছে মতন
গোলাপ জল ৩-৪ ফোঁটা

প্রণালী

ছানা বেটে‚ ঘন ক্ষীর‚ চিনি‚ ছানা এক সঙ্গে খুব ভাল করে মাখুন | এতে কিশমিশ মেশান | এবারে একটা কানা-উঁচু পাত্রে ছানাটা সমান করে ঢালুন | এক ইঞ্চি পুরু থাকে যেন মিশ্রণটা | একটা ডেকচিতে জল দিয়ে তার মুখে সন্দেশের পাত্রটি বসিয়ে কম আঁচে ভাপান |
যে ডেকচিতে জল দিয়েছেন‚ সন্দেশের পাত্রটি তার কানায় কানায় বসা চাই‚ নয়তো বাষ্প বেরিয়ে যাবে | এবার সন্দেশের পাত্রটার মুখেও হালকা ঢাকনা দিন | ভারী ঢাকনা দিলে জল বেরোবার সম্ভাবনা রয়েছে | এক থেকে দেড় ঘন্টা ভাপাতে হবে | যদি কোনও কারণে সন্দেশ থেকে জল বেরোয়‚ সেটা ফেলে দেবেন |
সন্দেশ ঠান্ডা হলে ওপরে পেস্তা বাদামের কুচি‚ গোলাপ জলে দিয়ে চৌকো করে কেটে সুন্দর করে বসিয়ে সাজান |

বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

শাহী মোরগ পোলাও রেসিপি

শাহী মোরগ পোলাও এর উপকরণ

  • চাল আধাকেজি
  • ২টি মুরগি (চার টুকরো করা)
  • ঘি ১ কাপ
  • পেঁয়াজ বাটা-১ কাপ
  • আদা বাটা-২ চা চামচ
  • রসুন বাটা- ২ চা চামচ
  • এলাচ-৬ টি
  • দারচিনি- ৪ টুকরো
  • জয়ত্রি
  • জয়ফল
  • লবঙ্গ
  • শাহি জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ
  • পেস্তাবাদাম
  • আলুবোখারা
  • তেল- আধা কাপ
  • টকদই-১ কাপ
  • কাঁচামরিচ
  • গোলমরিচ
  • লবণ পরিমাণ মতো
  • শুকনা মরিচ
  • পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ কাপ

শাহী মোরগ পোলাও এর প্রণালী

মুরগি চার টুকরা করে নিন। মাংসের টুকরোগুলো আধা ঘণ্টা লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর মুরগির টুকরোগুলো তুলে নিয়ে পেঁয়াজ, আদা- রসুন বাটা, গরম মসলা গুঁড়া ও টকদই মেখে কিছু সময় রেখে দিন।
মেরিনেট করা মাংস পাত্রে জয়ফলসহ বিভিন্ন মসলা দিয়ে চুলায় দিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করুন। মাংস সিদ্ধ হয়ে এলে, মাংসগুলো তুলে রেখে সেই পাত্রের তেল ও মসলায় চাল আধা সেদ্ধ করে রাখুন।
এবার পোলাও এবং মাংস কয়েক লেয়ারে সাজিয়ে ওপরে বেরেস্তা দিয়ে চুলার তাপ কমিয়ে আধা ঘণ্টা পাত্রে ঢাকনা দিয়ে রেখে দিন।
খাওয়ার ঠিক আগে ঢাকনা খুলে পাত্রে সাজিয়ে সালাদসহ গরম গরম পরিবেশন করুন।

মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

শিশুকে পড়ানোর সময় একজন মায়ের যে বিষয়গুলো মনে রাখা উচিত

আমাদের মায়েদের প্রতিদিনের কাজের মধ্যে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল বাচ্চাদের পড়াতে বসানো। বাচ্চারা বড় হলে কেবল তাদের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেই  দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়না, বরং স্কুলের পড়াগুলো ঠিক মতো তৈরি করতে বাচ্চাকে সাহায্য করা ও তার পড়াশোনার প্রতি সঠিক মনোযোগ স্থাপনে সাহায্য করতে একজন অভিভাবক হিসেবে মায়ের দায়িত্বের কথা বলে শেষ করা যাবে না।
শুধু যে একটি নির্দিষ্ট রুটিন মাফিক আপনার বাচ্চাকে পড়াতে বসালেই আপনার বাচ্চা ঠিকমতো এমনটা নয়। আপনাকেও এমন কোন ভালো উপায় খুঁজে বের করতে হবে যাতে আপনার বাচ্চা পড়তে বসতে আগ্রহী হয়ে ওঠে ও তার পড়ার সময়টুকু বাচ্চা সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করে।
আজ এই লিখাতে জানাবো বাচ্চাদের পড়াতে বসিয়ে মায়েরা মনে রাখবেন যে বিষয়গুলো।

পড়াতে বসানোর একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন

আপনার বাচ্চাকে পড়াতে বসানোর জন্য প্রথমে যা করতে হবে তা হল একটি নির্দিষ্ট সময়সূচী অনুসরণ করা। তবে মনে রাখবেন টাইম টেবিলটা হবে আপনার শিশু কখন পড়তে বসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে তার উপর নির্ভর করে। আপনি যদি আপনার সময় অনুযায়ী আপনার বাচ্চার পড়ার সময় বাছাই করেন এতে  আপনার বাচ্চার পড়ার প্রতি আগ্রহ কমতে থাকবে।

বাচ্চাকে পড়তে উৎসাহী করতে প্রশংসা করুন

আপনার বাচ্চার পড়ার গতি ও মনোযোগ উভয়ই বাড়াতে তাকে তার পড়ার ভালো ফলাফলের জন্য প্রশংসা করুন। সে কোন বিষয়ে ভালো অগ্রগতি দেখালে  হাততালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করুন।

বাচ্চার সাথে সাথে আপনিও পড়ুন

বাচ্চারা একা একা পড়ার থেকে সাথী নিয়ে পড়তে বেশী পছন্দ করে। আর তাই বাচ্চাকে পড়াতে বসিয়ে আপনি চুপচাপ না থেকে বাচ্চার সাথে সাথে পড়ুন। এতে আপনার বাচ্চা দ্রুত পড়া আয়ত্ব করতে পারবে।

পড়ার ফাঁকে ফাঁকে বাচ্চার সাথে খেলুন

পড়া যাতে একঘেঁয়েমি কোন ব্যাপারে পরিণত না হয় তা নিশ্চিত করতে বাচ্চার সাথে পড়ার ফাঁকে ফাঁকে খেলায় অংশগ্রহণ করুন। হতে পারে সেটা পড়া বিষয়কই কোন খেলা, যার মাধ্যমে বাচ্চা খেলতেও পারবে আবার সাথে পড়াও হবে।

বাচ্চাকে বার বার প্রশ্ন করুন

বাচ্চার জানার আগ্রহ বাড়িয়ে তুলতে পড়ার ফাঁকে তাকে জানা বিষয়ে বার বার প্রশ্ন করুন। আর আপনার বাচ্চা যদি প্রশ্নের ঠিক ঠিক উত্তর দেয় তাহলে তার প্রশ্নের উত্তরের বিপরীতে ভালোবাসা আর আদর দিন।

বাচ্চাকে পড়াতে বসানোর জায়গা বিস্তৃত করুন

আপনার বাচ্চার পড়ার জায়গা শুধু একটি নির্দিষ্ট ঘরে না রেখে একটু বিস্তৃত করুন। যেমন টেবিল চেয়ারে একটানা না পড়িয়ে বিছানায় বসাতে পারেন, মেঝেতে বসাতে পারেন কিংবা বারান্দায়। এতে স্থান পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে বাচ্চার পড়ার একঘেঁয়েমি কেটে যাবে।

পড়ানো শেষে বাচ্চাকে খেতে দিন তার পছন্দের কোন খাবার

প্রতিদিনের পড়ানোর শেষে সারপ্রাইজ হিসেবে আপনার সোনামণিকে দিতে পারেন তার পছন্দের কোন খাবার। দেখবেন এই উপায়ে আপনার বাচ্চার পড়াও হবে সাথে খাওয়াও হবে।
বাচ্চাকে সময় পেলে তার ছুটির দিনগুলোতে শিক্ষণীয় ভিডিও গেম দেখান, যেখানে বাচ্চার মজা করে পড়া লেখা করছে, কবিতা পাঠ করছে, টিচাররা বাচ্চাদের সাথে মজা করছে তাদের অনেক কিছু শিখাচ্ছে এমন ভিডিও দেখলে বাচ্চারা খুব আগ্রহ বোধ করে তাদের পড়ালেখা ঠিক মতো করতে।

সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

গর্ভকালীন সময়ে কি ধরনের হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে?

গর্ভাবস্থায় ব্যায়াম করাই যাবে না—এমন কোনো কথা নেই। বরং এই সময়ে যত বেশি কর্মক্ষম থাকা যায়, ততই ভালো। জেনে নিন গর্ভকালীন ব্যায়াম কেন ভালো?

হালকা ব্যায়াম

– মা ও শিশুর মধ্যে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়
– কোমর, পা ইত্যাদি ব্যথার উপশমে সাহায্য করে, সন্ধি, লিগামেন্ট, পেশিকে শিথিল করে।
 – কাজে উদ্যম আনে, ফিটনেস বাড়ায়
– অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি থেকে বাঁচায়
– পরিপূর্ণ ও গভীর ঘুমে সাহায্য করে
– কোষ্ঠকাঠিন্য, অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি দূর করে
– পায়ের রক্তনালি ফুলে ওঠা দূর করে
– স্বাভাবিক প্রসবে সাহায্য করে।

ব্যায়াম শুরুর আগে জেনে নিন

ব্যায়াম শুরুর আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার গর্ভাবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। নানা কারণে চিকিৎসক আপনাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলতে পারেন, সে সময় ব্যায়াম করা যাবে না।
-আপনি যদি আগে থেকেই কিছু হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়ামে অভ্যস্ত থাকেন, তবে তা চালিয়ে নিতে পারেন। তবে পেটের ওপর চাপ পড়ে এমন কোনো ব্যায়াম করা যাবে না। একজন অভিজ্ঞ ব্যায়াম প্রশিক্ষক, যিনি গর্ভকালীন ব্যায়াম সম্পর্কে জানেন—এমন কারও কাছে পরামর্শ নিতে পারেন।
-ব্যায়ামের সময় হালকা ও ঢিলেঢালা আরামদায়ক সুতির পোশাক পরুন। পায়ের জুতা নরম ও মাপমতো হওয়া চাই।
-প্রথমে খানিকটা হালকা ধরনের ব্যায়াম দিয়ে শুরু করুন। হাঁপিয়ে ওঠার মতো বা কষ্টকর ব্যায়াম দরকার নেই। প্রয়োজনে গতি কমান। অস্বস্তি, খারাপ লাগা থাকলে ব্যায়াম বন্ধ করুন।
-ব্যায়ামের দুই ঘণ্টা আগে দুই গ্লাস পানি পান করবেন, ১৫ মিনিট পরও দুই গ্লাস।
-ধীরে অবস্থান পরিবর্তন করুন, যেন ভারসাম্য না হারায়। শেষে হালকা হাঁটাহাঁটি করুন, তারপর কিছুটা বিশ্রাম নিন।

ব্যায়াম নিষেধ

উচ্চ রক্তচাপ, রক্তশূন্যতা, হূৎপিণ্ড ও ফুসফুসের রোগ, গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণ, ফুল নিচের দিকে থাকা বা প্লাসেন্টা প্রিভিয়া থাকলে ব্যায়াম নিষেধ। আগে গর্ভপাত হওয়ার ইতিহাস থাকলেও ঝুঁকি নেবেন না। ডাইভিং, জিমন্যাস্টিক, হকি, কারাতে, সাইক্লিং, নেট বল প্র্যাকটিস বা পাহাড়ে ওঠা জাতীয় পরিশ্রম গর্ভাবস্থায় করা যাবে না।

নিরাপদ ব্যায়াম

১ সম্পূর্ণ গর্ভকালীন সময়েই হাঁটাহাঁটি করা যায়। দিনে আধা ঘণ্টা হাঁটাই যথেষ্ট।
২ দিনে ১৫ মিনিট জগিংও করতে পারেন, তবে বেশি হয়রান লাগলে ধীরে হাঁটুন।
৩ গর্ভাবস্থায় সাঁতার খুবই নিরাপদ ও ভালো ব্যায়াম এবং এতে দেহের বিভিন্ন অস্থিসন্ধি, লিগামেন্ট ইত্যাদির ব্যথা কমে।
৪ গর্ভাবস্থার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী কিছু যোগব্যায়াম

ত্বকের যত্নে আপেলের ফেসপ্যাক

স্বাস্থ্যগুণের দিক দিয়ে আপেল একটি উল্লেখযোগ্য ফল। তবে একই সঙ্গে রূপচর্চার দিকে থেকেও এর ব্যবহার রয়েছে। আপেলের তৈরি ফেসপ্যাক ভিন্ন ভিন্ন ত্বকের যত্নে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
 
 
শুষ্ক ত্বকের জন্য প্যাকঃ
১ টেবিল চামচ গ্রেট করা আপেল এবং ১/২ চা চামচ অলিভ অয়েল নিন। এই দুইটি উপাদান খুব ভালোভাবে মেশান। এরপর এটি মুখে ও গলায় লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। পরে হালনা গরমা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
 
 
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য প্যাকঃ
১ চা চামচ গ্রেট করা আপেল, ১ চা চামচ টকদই আর ১ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের তৈলাক্ততা কমার সাথে সাথে উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পাবে।
 
মিশ্র ত্বকের জন্য প্যাকঃ
১ টেবিল চামচ গ্রেট করা আপেলের সাথে ১/২ চা চামচ মধু ভালো করে মিশিয়ে ২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
তবে এই প্যাকগুলো ব্যবহারের আগে বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখা খুবই জরুরি। আপেল আগে থেকে কেটে রাখলে তা অক্সিডাইজ হয়ে যায়। এই অবস্থায় আপেল ব্যবহার করলে তা ত্বকের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করবে। তাই ফেসপ্যাক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবসময়ই তাত্ক্ষণিক কেটে ব্যবহার করতে হবে।

রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

পিরিয়ডের সময় তলপেটে ব্যথায় করণীয়

মেয়েদের মাসিকের সময় তলপেটে ব্যথা আমাদের দেশে একটা সাধারণ ব্যাপারই  বলতে হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় এ ব্যাথার পরিমাণ যখন এমন হয় যে তা দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত করে, তখনই কেবল এটাকে অসুস্থতা বা ডিজমেনোরিয়া বলে গণ্য করা হয়।  কিন্তু একটু সচেতন হলেই এই ব্যথা এড়িয়ে চলা যায়।

মাসিকে পেটে ব্যাথা সমাধান

নিচে মাসিকের সময় পেট ব্যাথা সমাধানের কিছু সহজ পদ্ধতি ছবি সহয় উপস্থাপন করা হলো –

সাধারণ পদ্ধতিঃ

1
কোন বোতলে গরম পানি ভরে বা কাপড় গরম করে তলপেটে ২০/২৫ মিনিট ছ্যাক লাগাতে হবে। এটা সপ্তাহে টানা ৩/৪ দিন করে করতে হবে। এতে ধীরে ধীরে মাসিকের সময় ব্যাথা কমে যাবে।

সিজ বাথঃ

2
৩ মিনিট গরম পানিতে কোমর ডুবিয়ে বসে থাকতে হবে। পরের ২/১ মিনিট ঠাণ্ডা পানিতে। এভাবে ২০/২৫ মিনিট সিজ বাথ নিতে হবে। এটাও সপ্তাহে টানা ৩/৪ দিন নিতে হবে। শুধু পানি বা পানিতে কিছু লবন, বেকিং সোডা বা ভিনেগারও ব্যবহার করা যায়।

বিশেষ কিছু টিপস/পরামর্শ

মাসিকের সময় অনেক মেয়ে এবং মহিলার পেটে ব্যাথা হয়। ক্ষেত্র বিশেষে এই ব্যাথা অসহ্য পর্যায়ে চলে যায়, সেটা সহ্য করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যাথা নিরাময়ে বিশেষ কিছু টিপস নিচে উল্লেখ করা হলো –
প্রচুর পানি পান করুনঃ
মাসিকের সময় পেটে ব্যাথা অনুভূত হলে প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন। কারন এসময় দেহে পানি শূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই খাবারের আগে পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং পানীয় জাতিয় খাবার গ্রহন করুন। বিশেষ করে ভিটামিন এবং মিনারেলে ভরপুর খাবার খান।
দুধ পান করুনঃ
মাসিকের সময় শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়। এসময়ে প্রতিদিন এক গ্লাশ করে দুধ পান করুন। তবে যাদের পেটে দুধ সহ্য হয় না, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট গ্রহন করতে পারেন।
গরম পানির ছ্যাকা দিনঃ
বাজারে গরম পানি ছ্যাকা দেয়ার জন্য বিশেষ ব্যাগ পাওয়া যায়। এগুলোতে গরম পানি ঢুকিয়ে তারপর পেটে ছ্যাকা দিন। এতে ব্যাথা কিছুটা হলেও কমতে পারে। তবে খেয়াল রাখবেন গরম যেন সহনীয় মাত্রায় হয়।
আদাঃ
মাসিকের সময় আদা বেশ কাজে দেয়। লাল চা এর সাথে আদা সহযোগে পান করুন। অথবা আদার প্যাক তৈরি করে দৈনিক দু তিনবার চা এর সাথে পান করুন।
ল্যাভেন্ডার অয়েলঃ
মাসিরকের সময় ১০-১৫ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল নিয়ে পেটে মালিশ করে দিন। এতে সাময়িক সময়ের জন্য পেটের ব্যাথা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
ধনে বীজ ব্যবহার করুনঃ
যদি সম্ভব হয় তাহলে ধনে বীজ যোগাড় করে সেটা গরম পানি সহযোগে পান করুন। এতে মাসিকের সময় পেটে ব্যাথা নিরাময়ে বেশ উপকার পেতে পারেন।
এ্যলোভেরার রসঃ
এ্যলোভেরার রসের সাথে মধু মিশিয়ে একটি জুস তৈরি করে ফেলুন। মাসিকের ব্যাথার সময় এটি পান করুন। দিনে কয়েকবার এটি পান করুন। ব্যথা অনেকখানি কমিয়ে দেবে এই পানীয়টি।
পেঁপে ব্যাবহার করুনঃ
মাসিকের ব্যাথা রোধের জন্য পেঁপে খাওয়া বেশ কার্যকরী। মাসিকের সময় নিয়মিত কাঁচা পেঁপে খান। কাঁচা পেঁপে মাসিকের ব্যাথা কমিয়ে দেয়।
গাজরের রস ব্যবহার করুনঃ
এক গ্লাস গাজরের রস আপনাকে দীর্ঘক্ষণ পেটে ব্যথা থেকে মুক্তি দেবে। মাসিক চলাকালীন প্রতিদিন এক গ্লাস গাজরের রস পান করার চেষ্টা করুন।
কফি এড়িয়ে চলুনঃ
কফিতে শরীরে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী ক্যাফেইন থাকে। এতে পেটের ব্যাথা অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই কফি পান এড়িয়ে চলুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

মাসিক চলাকালিন ছ্যাক নিব না আগে? সপ্তাহ বলতে কি পুরো মাস বুঝানো হয়েছে?
সপ্তাহ বলতে মানে প্রতি সপ্তাহে টানা ৩/৪ দিন। মাসিক হোক বা না হোক। যখন ব্যথা হয়, তখনও ছ্যাক নিতে পারেন।
কোন ঔষধ কি খাওয়া যাবে?
আগে ডাক্তার দেখাতে হবে, তারপর ব্যথার ধরণ বুঝে ঔষধের ব্যবস্থা করতে হবে। মাসিকের ব্যাথার জন্য “গরম পানির ব্যাগ” ব্যবহার করবেন, আর বেশী পানি খাবেন, এতে রক্ত জমাট না বেধে সাধারন প্রক্রিয়ায় বের হবে । ভি‍ত‍রে আগুল দিয়ে পরিস্কার করবেন না , পরিস্কার প্যাড ও কাপড় ব্যবহার করবেন , যাদের সব সময় ধাতু বের হয় তাদের সাধারনত মাসিকের সময় ব্যাথা হয় ।
আমার মাসিকের সময় যখন ব্যথা করে তখন পেইন কিলার ঔষধ খাই, এতে কি কোন ক্ষতি হবে?
এটা কোন স্থায়ী সমাধান নয়। খুব পেইন হলে ঔষধ খাওয়া যেতে পারে, তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে।

পাস্তার পায়েস তৈরীর রেসিপি

উপকরণ:
পাস্তা ১/২ প্যাকেট (৫০ গ্রাম)
দুধ ৫০০ গ্রাম
চিনি ২০০ গ্রাম
কাজুবাদাম ও কিসমিস কয়েকটি
ছোট এলাচ ২ টি থেঁতো করা

প্রণালী:
প্রথমে দুধ গরম করতে দিন । একবার ফুটে উঠলে পাস্তা গুলি দিয়ে দিন। দুধ ঘন করতে দিন। মাঝে মাঝে নাড়বেন না হলে পাস্তা দলা পেকে যাবে। ঘন হয়ে এলে চিনি দিয়ে দিন। কাজুবাদাম ও কিসমিস দিয়ে দেবেন। চিনি গলে গেলে নামিয়ে নিন। ছোট এলাচ ছড়িয়ে চাপা দিয়ে দিন। ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।

শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

রূপচর্চায় দুধের অসাধারণ ৫টি ব্যবহার যা আপনি আগে জানতেন না

আজকে জেনে নিন রূপচর্চায় দুধের এমনই দারুণ কিছু ব্যবহার সম্পর্কে যা আপনার ত্বক ও চুলের হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে।

১) ফেসিয়াল ক্লিনজার হিসেবে দুধ

বাজারে কিনতে পাওয়া প্রায় সকল ফেসিয়াল ক্লিনজারে ক্ষতিকর কেমিক্যাল থাকে যা ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করে দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে। এরচাইতে ব্যবহার করতে পারেন দুধ। শুধুমাত্র তুলোর বলে দুধ ভিজিয়ে ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে নিন এবং শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। বেশ ভালো কাজে দেবে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতাও ফিরে পাবেন।

২) ময়েসচারাইজার হিসেবে দুধ

রুক্ষ শুষ্ক ত্বকের জন্য কেমিক্যাল সমৃদ্ধ ময়েসচারাইজার ব্যবহার না করে শুধুমাত্র দুধ ব্যবহারেও অনেক ভালো ফলাফল পাবে। দুধে মধু মিশিয়ে ত্বকে সামান্য সময় ম্যাসাজ করে নিন এবং এরপর ত্বক ভালো করে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এছাড়াও পাকা করা পিষে দুধ মিশিয়ে প্যাক ব্যবহার করলেও ভালো ফলাফল পাবেন।

৩) ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে দুধ

তাৎক্ষণিকভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে দুধের কার্যকারিতা অনেক বেশী। সামান্য একটু চিনির সাথে দুধ মিশিয়ে ত্বক আলতো করে ম্যাসাজ করে নিন। এতে করে ত্বকের উপরের কালচে মরা কোষ দূর হবে এবং দুধ ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে তাৎক্ষণিকভাবেই।

৪) ত্বকের দাগ দূর করতে দুধ

ত্বকের যেকোনো ধরণের দাগ দূর করতেও দুধ বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কারণ দুধে রয়েছে মাইল্ড অ্যাসিড যা ত্বকের দাগ ধীরে ধীরে মিলিয়ে দিতে সক্ষম। আলু গ্রেট করে চিপে তা থেকে রস বের করে সমপরিমাণ দুধের সাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে নিন ঘুমুতে যাওয়ার আগে। সকালে উঠে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে নিন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের দাগ দূর হবে বেশ দ্রুত।

৫) চুল ডীপ কন্ডিশন্ড করতে

রুক্ষ শুষ্ক চুল, চুলের আগা ফাটা এই ধরণের চুলের সমস্যা সমাধানে দুধ দিয়েই করে নিতে পারেন ডীপ কন্ডিশন। শুধুমাত্র দুধ চুলে ম্যাসাজ করে ৩০ মিনিট রেখে চুল ধুয়ে নিন শ্যাম্পু করে। কিংবা টকদই, মেয়োনেজ এবং দুধ একসাথে মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপর চুল ধুয়ে নিন। চুলের উজ্জ্বলতা এবং ঝলমলে ভাব আপনি নিজেই টের পাবেন।

রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

শিশুর খাবারে স্বাদ বাড়াবেন যেভাবে

জেনে নিন ছয় মাস থেকে দুই বছর বয়সী শিশুদের উপযোগী ছয়টি খাবারের রেসিপি।

১। দুধ–ডিম

উপকরণ: দুধ এক কাপ, ডিম ১টি (দেশি মুরগির হতে হবে), লবণ পরিমাণমতো, চিনি আধা চা-চামচ, ভ্যানিলা এসেন্স ১ থেকে ২ ফোঁটা ও ডালিমের রস।

প্রণালি: দুধ ভালো করে জাল দিতে হবে। এবার ফুটন্ত দুধে ডিম ছেড়ে ভালো করে ঘুঁটে নিতে হবে। এরপর এর সঙ্গে এক বা দুই ফোঁটা ভ্যানিলা এসেন্স মেশাতে হবে। সবশেষে  ডালিমের রস ছিটিয়ে দিতে হবে। এতে খাবারটি দেখতে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। ডালিমের রসের পরিবর্তে ফুড কালার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে তা অবশ্যই অনুমোদিত হতে হবে।

২। পিশপাশ

উপকরণ: পোলাও চাল ২ টেবিল চামচ, শাকপাতা (পালং/পুঁই) ১টা বা ২টা, মিষ্টিকুমড়া ১ টুকরো, আলু মাঝারি আকৃতির চার ভাগের এক ভাগ, মৌসুমি সবজি ১ টুকরো (কিউব আকৃতির), স্বাদ বাড়ানোর জন্য লেবু, লবণ ও ঘি। 

প্রণালি: প্রথমেই সবজিগুলো সেদ্ধ করে নিতে হবে। এরপর এক থেকে দেড় কাপ পানিতে পোলাও চাল আর ডাল সেদ্ধ করতে হবে। চাল সেদ্ধ হয়ে গেলে ঘুঁটনি দিয়ে ভালো করে ঘুঁটে নিতে হবে। এরপর মিষ্টিকুমড়া, আলু, মৌসুিম সবজি, শাকপাতা সব একত্রে চটকে নিতে হবে। চটকানো সবজিগুলো চুলোয় সেদ্ধ করা পোলাও চালের সঙ্গে দিয়ে দিতে হবে। আরও একবার ঘুঁটনি দিয়ে ভালো করে ঘুঁটে নিন। রান্না হয়ে গেলে চার ভাগের এক চা-চামচ ঘি ওপর দিয়ে দিন। খেয়াল রাখতে হবে, খাবারটি যেন বেশি তরল বা বেশি ঘন না হয়। সেমি-সলিড হবে। খাওয়ানোর আগে হালকা লেবুর রস দিয়ে দিলে খাবারে ভিন্ন স্বাদ আসবে।
[ছয় থেকে আট মাসের শিশুকে প্রতিদিন ১ থেকে ২ চামচ খাওয়ানো যেতে পারে।
এক বছরের শিশুদের জন্য বেশি উপযোগী]

৩। ভাতের মাড়ে মাছ

উপকরণ: ভাতের মাড় এক কাপ, লেবুর রস আধা চা-চামচ, আলু চার ভাগের এক ভাগ, শিং মাছ এক টুকরো।

প্রণালি: প্রথমেই সামান্য লবণ দিয়ে আলু ও এক টুকরো শিং মাছ সেদ্ধ করে নিতে হবে। এরপর সেদ্ধ আলুর চার ভাগের দুই ভাগ চটকে নিন। মাছের কাঁটা বেছে ভালো করে চটকানো আলু মিশিয়ে নিন। এর সঙ্গে এক চামচ পরিমাণ চটকানো শিং মাছ মিশিয়ে সঙ্গে পরিমাণমতো লেবুর রস দিয়ে ভালো করে নেড়ে নিন।
[ছয় মাসের বাচ্চার জন্য উপযোগী খাবার]

৪। ফিরনি

উপকরণ: দুধ আধা লিটার, চিনি ২ বা ৩ টেবিল চামচ, পোলাও চাল ৫০ গ্রাম, এলাচি ১টা, দারুচিনি ১ টুকরো ও কিশমিশ পরিমাণমতো।

প্রণালি: পোলাও চাল আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর চাল আধা বাটা করে নিতে হবে। এলাচি, দারুচিনি ও কিশমিশ দিয়ে দুধ জাল দিয়ে এর মধ্যে আধা বাটা চাল দিয়ে এমনভাবে নাড়তে হবে, যাতে চাল চাকা চাকা না হয়। একটু ঘন হয়ে এলে নামিয়ে একটি বাটিতে ঢেলে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।
[এক-দুই বছরের বাচ্চাদের জন্য]

৫। বানানা পুড়িং

উপকরণ: দুধ ১ লিটার, ডিম ৩টি, কলা ১টি, চিনি ৩ টেবিল চামচ + ২ টেবিল চামচ।

প্রণালি: ১ লিটার দুধ ফুটিয়ে আধা লিটার করতে হবে। এবার দুধটুকু ঠান্ডা করে নিন। একটি প্যানে ২ টেবিল চামচ চিনি ও ১ টেবিল চামচ পানি যোগ করে মাঝারি তাপে ক্যারামেল তৈরি করুন। ক্যারামেল তৈরি হলে চুলা থেকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যে পাত্রে পুডিং তৈরি করবেন (বেকিং প্যান), সে পাত্রে ক্যারামেল ঢেলে দিন। এরপর ক্যারামেল এক পাশে ঠান্ডা করতে দিন। এবার ব্লেন্ডারে ডিম, চিনি, কলা ও দুধ দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করুন। (মিশ্রণ তৈরি করতে হ্যান্ড মিক্সচারও ব্যবহার করতে পারেন)। এরপর মিশ্রণটি ক্যারামেল করে রাখা পাত্রে ঢেলে দিন। এখন পুডিং প্যানের চেয়ে বড় একটি প্যান নিন। এতে ফুটন্ত পানি নিন (প্যানে ততটুকু পরিমাণ পানি নিন যতটুকু পানির মাঝে আপনার পুডিং প্যানটি বসালে প্যানটির অর্ধেক অংশ পানিতে ডুবে থাকবে এবং প্যান পানিতে ভাসবে না)। এখন পুডিং প্যানটি বড় প্যানে বসিয়ে দুটি প্যানই ঢেকে দিন এবং ওভেনে ৪৫-৬০ মিনিটের মতো বেক করুন।
[পুডিং এক-দুই বছরের বাচ্চাদের জন্য]




[ছয় মাস থেকে দুই বছরের বাচ্চদের জন্য]

রান্না করার সময় টুকটাক টিপস আপনার জানা আছে কি?

 

রান্না করার সময় টুকটাক টিপস জানা থাকলে রান্না ভাল হয়, সুরক্ষা থাকা যায় এবং সময় বাঁচে। রেসিপি দেখে রান্না করতে হলে রান্নাঘরে যাবার আগেই রেসিপিটা প্রিন্ট করে নিতে হবে।

* মাছ রান্না করে হাতের কাছে কাঁচা ধনিয়া পাতা থাকলে তা কুচি করে কেটে বিছিয়ে দিন, স্বাদ দুইশত গুন বেড়ে যাবে।

* ডালে বাগার দিতেই হবে, রসুন কুচি তেলে ভেজে ডালে দিয়ে দিতে হবে।

* মাংশ জাতীয় রান্না করে শেষে বেরেস্তা (পেঁয়াজ কুচি ভাজি) দিয়ে দিন। স্বাদ বেড়ে যাবে।

* ডিম সিদ্ব করতে পানিতে সামান্য লবন দিন। ডিম খেতে সুস্বাদু হবে। গরমাবস্থায় ডিম ছিলবেন না, ঠান্ডা করে ছিলুন এতে খোসায় লেগে ডিম নষ্ট হবে না।

* চুলায় হাড়ি পাতিলে ঢাকনা থাকলে তা খালি হাতে ধরবেন না। গরম থাকলে হাত পুড়ে যেতে পারে।

* ভর্তা বানাতে মরিচ খালি হাতে ঢলবেন না, হাত জ্বলে আপনি কষ্ট পেতে পারেন।

* যে কোন মাছ ভাঁজতে কড়াই থেকে একটা নিদিষ্ট দূরে থাকুন। মাছে পানি থাকলে কিংবা ফুটে আপনার গায়ে/চোখে তৈলের চিটকা পড়তে পারে। সাবধানে কাজ করবেন। দূর থেকে নাড়ুন।

* শুকনা মরিচ ভাজলে বা পুড়লে বাতাসে একটা ঝাঁজ তৈরী হয় এতে হাচি, কাচি এসে নাস্তা নাবুদ হয়ে যেতে পারেন। ভাজার সময় রান্নাঘরের দরজা জানালা ভাল করে খুলে দিন। প্রয়োজনে এডজাষ্টার ফ্যান থাকলে তা চালিয়ে দিন।

* ভাজিতে তেল বেশী পড়ে গেলে ভাজি কড়াই, প্যানের এক দিকে সরিয়ে কড়াই/প্যান কাত করে রেখে দিবেন ১৫/২০ মিনিট। তারপর ঐ কাত করা অবস্থাতেই ভাজিগুলো বাটিতে নিয়ে নিবেন। আর ঐ বাড়তি তেল পরে অন্য ভাজিতে ব্যাবহার করতে পারবেন। মাংসের তরকারীতেও যদি তেল বেশী হয়, উপর থেকে চামচ দিয়ে তেল উঠিয়ে পরে ভাজিতে ব্যাবহার করলে ভালো লাগে।

* এলাচ সম্পুর্ণ গুড়ো করে ব্যবহার করা ভাল। গোটা এলাচ কামড়ে পড়লে খাওয়ার মজাই নষ্ট হয়ে যায়। আবার এলাচ ভালো করে না ফাটালে তো সুগন্ধই হবেনা।

* সবজীর রং ঠিক রাখতে ঢাকনা দিয়ে জ্বাল না দেয়াই ভাল। আর কিছু সব্জী আছে যাদের সামান্য সিদ্ব করে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে কিংবা বরফ কুঁচিতে রাখলে রান্নার পরও রং ঠিক থাকে।

* কিছু ভাজিতে কড়াইতে তেল গরম হলে যা দেবেন তার সাথে সামান্য লবণ দিয়ে দিন, তেলের ছিটকা উঠবে না।

* ডালের মজা জ্বালে! অর্থাৎ যত বেশি সময় জ্বালানো হবে স্বাদ বেড়ে যাবে ততই।

* যদি তেলাপিয়া মাছে কোন গন্ধ থাকে তবে তেলাপিয়া মাছ হলুদ ও ভিনিগার/লেবুর রস মাখিয়ে মিনিট ১৫ রেখে ধুয়ে নিলে গন্ধ থাকেনা।

* লাল সর্ষে তিতা বা ঝাজ বেশী হয়। হলুদ সর্ষে ব্যাবহার করলে তিতা হয়না। আরেকটি কথাঃ সর্ষে বাটার সময় লবন আর কাচামরিচ এক সাথে বাটলে তিতা হয়না।

নারীদের হাঁটুব্যথা ও প্রতিকার


চল্লিশ বছরের বেশি বয়সী অনেকের হাঁটুব্যথা করে। বিশেষ করে সকালে টয়লেটে বসলে অথবা হাঁটু ভেঙে নামাজ পড়লে বেশিরভাগ নারীর (মাসিক যাদের বন্ধ হয়েছে) হাঁটুব্যথা শুরু হয়। সাধারণত হাড়ক্ষয়জনিত সমস্যায় এমন হয়ে থাকে। এটি এক ধরনের বাতরোগ বা অস্টিওআর্থ্রাইটিস। এটি এমন এক চলমান রোগ যা মাঝে মধ্যেই দেখা দেয়। রোগী যখন প্রথম প্রথম ব্যথা অনুভব করেন, তখন হাঁটার সময় পায়ের ভারসাম্য এদিক-সেদিক করে ফেলেন। এতে হাঁটুর সংযোগস্থলের একটা পজিশনাল ফল্ট বা অল্প ডিসপ্লেসমেন্ট দেখা দেয়। এতে রোগী হাঁটু ভাঁজ করে বসতে পারেন না, সিঁড়ি বা উঁচু-নিচুতে উঠতে-বসতে কষ্ট হয়। অনেক সময় হাঁটুতে কটকট শব্দ বা টান অনুভূব হয়। এ জন্য দরকার সঠিক ম্যানুয়াল ও ম্যানুপুলেশন ফিজিওথেরাপি। তা রোগীকে হাঁটু ভেঙে বসতে সাহায্য করবে।

হাঁটুব্যথার কারণ : আর্থ্রাইটিসজনিত সমস্যা, আঘাতজনিত সমস্যায় স্পোর্টস ইনজুরি লিগামেন্ট বা টেন্ডন ইনজুরি, মিনিস্কাস ইনজুরি, প্যাটেলা ইত্যাদি। অনেক সময় কোমরের নার্ভ বা স্নায়ুর কারণে হাঁটুব্যথা হয়। টিউমার বা ক্যানসারজনিত কারণেও হাঁটুব্যথা হতে পারে।

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা : ম্যানুয়াল থেরাপি যা রোগীকে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভালো করে। জয়েন্ট জোড়া সঠিক অবস্থানে আনা। এর আরেক নাম মোবালাইজেশন উইথ মুভমেন্ট চিকিৎসা। ম্যানুপুলেশন থেরাাপি ডিপ ফ্রিকশন ও মায়োফেসিয়াল রিলিজ টেকনিক। এটি হাঁটুর উপর ও নিচের মাংসপেশি এবং লিগামেন্ট নরম করে। ফলে হাঁটুব্যথা কমে জয়েন্ট পাতলা অনুভূব হয়। আইসোমেট্রিক বা স্ট্রেনথেনিং এক্সারসাইজ ও স্ট্রেসিং এক্সারসাইজ যা হাঁটুর শক্তি এবং রেঞ্জ অব মুভমেন্ট বৃদ্ধি করে। ড্রাই নিডিলিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাঁটুর শক্ত মাংসপেশি নরম করা হয়। তাই রোগী সহজে হাঁটু ভাঁজ করতে পারেন, হাঁটু ভেঙে টয়লেটে বসতে ও নিচু হয়ে বসে নামাজ পড়তে পারেন।

হাঁটুব্যথায় করণীয় : হাঁটুর তাপমাত্রা যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে বরফ বা ঠা-া সেঁক দেবেন। হাঁটুর তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলে গরম সেঁক দিতে হবে। হাঁটু ফোলা থাকলে হাঁটাহাঁটি কম করে পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে উঁচু করে রাখতে হবে। প্রয়োজনে নিকেপ ব্যবহার করতে হবে। হঠাৎ ব্যথা হলে পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

দাঁতের ক্ষয় রোধ করুন সহজ ৩টি ঘরোয়া উপায়ে…


বর্তমানে দাঁত ক্ষয় ও দাঁতে ছিদ্র হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণত শিশু, টিনএজার ও বয়স্কদের এই সমস্যাটি বেশি হতে দেখা যায়।

ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলেই দাঁত ক্ষয় হয়ে থাকে। ঘন ঘন স্ন্যাক্স ও ড্রিঙ্কস খাওয়া, অনেকক্ষণ যাবত দাঁতের মধ্যে খাবার লেগে থাকা, ফ্লোরাইড এর অপর্যাপ্ততা, মুখ ড্রাই থাকা, মুখের স্বাস্থ্যবিধি না মানা, পুষ্টির ঘাটতি এবং ক্ষুধামন্দার সমস্যা থাকা ইত্যাদি কারণে দাঁতে ছিদ্র ও দাঁত ক্ষয় রোগ হয়ে থাকে।

লক্ষণ সমূহঃ
-দাঁতে প্রচন্ড ব্যাথা হয়
-কোন কিছু খাওয়া বা পান করার সময় হালকা থেকে তীব্র ব্যাথা হয়
-আক্রান্ত দাঁতে গর্ত দেখা যায় এবং
-দাঁতের উপরে সাদা, কালো বা বাদামী দাগ দেখা যায়।
-যদি প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করা না হয় তাহলে ইনফেকশন বৃদ্ধি পেয়ে ব্যাথা ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে এবং দাঁতটি হারানোর সম্ভাবনা ও দেখা দিতে পারে। ক্যাভিটির চিকিৎসায় দাঁতে ফিলিং করা হয় ও ক্যাপ পরানো হয় এবং দাঁতের অবস্থা খুব খারাপ হলে রুট ক্যানেল করা হয়। এই সব চিকিৎসা খুব ব্যায় বহুল এবং কষ্টদায়ক।

ঘরোয়া কিছু উপায়ে দাঁতের ব্যাথা কমানো যায়। জেনে নিন সেই উপায় গুলো সম্পর্কেঃ

১। হলুদ গুঁড়ো
দাঁতের ছিদ্রের সমস্যায় হলুদ গুঁড়ো ব্যাবহার খুবই উপকারি। হলুদে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী উপাদান আছে যা দাঁতের ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশন কে ধ্বংস করতে পারে এবং এর প্রদাহ রোধী উপাদান দাঁতের ব্যাথা উপশম করতে পারে। হলুদ গুঁড়া ও পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন এবং আস্তে আস্তে ব্যাথার দাঁতে লাগান,ব্যাথা কমে যাবে।

২। পেঁয়াজ
পেঁয়াজের একটি স্লাইস আক্রান্ত দাঁতের উপরে চেপে রাখুন দাঁতের ব্যাথা কমে যাবে। নিয়মিত পেঁয়াজ খেলে দাঁত ক্ষয় এর সমস্যা কমায়। নিয়মিত পেঁয়াজ দেয়া খাবার খেলে দাঁত ক্ষয় সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়।

৩। লবণ
লবনে অ্যান্টিসেপ্টিক ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান আছে, যা মুখে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ব্যাহত করে প্রদাহ কমাতে ও ব্যাথাকে সহনীয় করতে সক্ষম। ১ গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১ টেবিল চামুচ লবণ মিশিয়ে মুখে নিয়ে ১ মিনিট রাখুন এবং আক্রান্ত দাঁতের প্রতি মনোযোগ দিন।
এভাবে দিনে ৩ বার করে করুন ব্যাথা কমে যায়। এছাড়াও ১ টেবিল চামুচ লবণ অল্প সরিষার তেলের সাথে অথবা লেবুর রসের সাথে মিসিয়ে পেস্ট তৈরি করে মাড়িতে ম্যাসাজ করুন কয়েক মিনিট। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে কুলি করে নিন। এভাবে দিনে ২ বার করে কয়েকদিন করুন, ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হবে।

এছাড়াও বেকিং সোডা, অ্যালোভেরা, লবঙ্গ, রসুন, পুদিনা, আপেল সিডার ভিনেগার ইত্যাদি ব্যবহার করেও ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ও দাঁতের ব্যাথা কমানো যায়। সকালে ও রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করুন। দাঁত পরিষ্কার করতে ফ্লস ব্যবহার করুন এবং প্রতিদিন জিহ্বা পরিষ্কার করুন।

ঠোঁটের যত্ন ও মেকআপ পদ্ধতি


ঠোঁটের সৌন্দর্যে করণীয়-

ঠোঁটের যত্নে যা করবেন
 ১. প্রতিদিন কুসুম গরম পানি দিয়ে ঠোঁট পরিষ্কার করে তাতে কোনো ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম অথবা চ্যাপস্টিক লাগিয়ে রাখুন। এছাড়া রাতে ঘুমোনোর আগে গোলাপ জলে মেশানো গ্লিসারিন পানি ঠোঁটে লাগিয়ে শুতে পারেন অথবা ভালো পেট্রোলিয়াম জেলির প্রলেপ লাগিয়ে নিতে পারেন।
গ্লিসারিন পানি তৈরির নিয়ম : সমপরিমাণ গ্লিসারিন ও গোলাপ জল অথবা খাবার পানি মিশিয়ে নিলেই হলো। তবে একবারে বেশি পরিমাণে বানাবেন না। নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই অল্প অল্প করে বানিয়ে ব্যবহার করবেন।

২. সম্ভব হলে ঠোঁটে দুধের সর ও চিনি মিশিয়ে গলে না যাওয়া পর্যন্ত ম্যাসাজ করে নিতে পারেন। তাতে ঠোঁট অনেকটা সজীব দেখাবে।

৩. সপ্তাহে দু’এক দিন ঠোঁট জোড়া ব্রাশ করে নেবেন। তাতে ঠোঁটের মরা কোষগুলো ঝরে যাবে।

৪. ঠোঁট কামড়ানো ও জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো পরিহার করুন।

৫. যাদের ঠোঁট ঘন ঘন শুকিয়ে যায় বা ফেটে যায়, তারা ভ্যাসলিন বা অ্যালোভেরা জেল লাগাতে পারেন। তবে ঠোঁটে ভ্যাসলিন লাগিয়ে কখনোই রোদে যাবেন না। তাতে ঠোঁট কালো হয়ে যেতে পারে।

৬. রোদে বের হওয়ার সময় ঠোঁটে কিছুটা নারিকেল তেল নিন। এরপর চাইলে লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। তবে যে লিপস্টিকই ব্যবহার করুন না কেন, সেটা যেন অবশ্যই ভালো ব্র্যান্ডের হয়। কেননা, লিপস্টিকের কারণে ঠোঁটে অ্যালার্জিসহ নানাবিধ ক্ষতি হতে পারে।

৭. রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই ক্রিম বা তুলা দিয়ে লিপস্টিক তুলে ফেলে একটু ভ্যাসলিন লাগিয়ে নিন। নিয়মিত লিপজেল বা চ্যাপস্টিক ব্যবহার করুন। তবে অধিক সুগন্ধিযুক্ত লিপজেল বা চ্যাপস্টিক ব্যবহার না করাই ভালো। অতিরিক্ত প্রসাধনী ঠোঁটকে শুষ্ক করে তোলে। তাই সাময়িক সৌন্দর্যের জন্য অপ্রয়োজনীয় প্রসাধনী ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

৮. প্রতিবার দাঁত মাজার সময় টুথপেস্ট আমাদের ঠোঁট স্পর্শ করে। তাই টুথপেস্টটিও হওয়া চাই ভালো কোম্পানির ও নিরাপদ।


৯. এ ছাড়া সাবান এবং ফেসওয়াশ একদম ঠোঁটে লাগাবেন না।

১০. ঠোঁটের কোনা ফাটা রোধ করতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘বি’ ও ‘সি’ জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন।

১১. দিনে দু’বারের বেশি চা-কফি খাওয়া উচিত নয়।

১২. একটা লেবুর অর্ধেকটা কেটে তার উপর দু’ফোটা মধু ফেলে বৃত্তাকারে ঠোঁটে ম্যাসাজ করুন। এতে করে ঠোঁটের কালো ভাব দূর হবে।

১৩. বিভিন্ন ঋতুতে আবহাওয়ার অত্যাচার থেকে ঠোঁটকে রক্ষা করতে হলে সবুজ শাক-সবজি, ফল ও প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে।

১৪. সানস্ক্রিন লিপ গ্লস ব্যবহার করতে পারেন সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ঠোঁটকে রক্ষা করতে।

ঠোঁটে মেক-আপের পদ্ধতি-
ঠোঁট যেমন সরু, মোটা, চ্যাপটা- বিভিন্ন ধরনের তেমনি লিপস্টিক লাগানোর কায়দাও বিভিন্ন।
লিপস্টিক লাগানোর সময় প্রথমে ঠোঁটে একটু পাউডার লাগিয়ে নিলে ভালো হয়। তারপর লিপ পেন্সিল দিয়ে হালকা করে আউট লাইন এঁকে নিন। তারপর ঠোঁটের মধ্যভাগ লিপ ব্রাশের সাহায্যে লিপস্টিক লাগিয়ে ভরে দিতে পারেন অথবা সরাসরি লিপস্টিক দিয়েও ভরে নিতে পারেন। এরপর একটা টিস্যু পেপার দিয়ে চেপে অতিরিক্ত লিপস্টিকের রং তুলে ফেলুন। গ্রীষ্মে দিনের বেলায় কটকটে কড়া রঙের লিপস্টিক লাগানো উচিত নয়। তবে তা রাতে ব্যবহার করতে পারেন- পার্টি বা যেকোনো অনুষ্ঠানে।

পাতলা ঠোঁটের জন্য
পাতলা ঠোঁট ভরাট দেখানোর জন্য ঠোঁটের প্রকৃত সীমারেখার ঠিক বাইরে আউট লাইন এঁকে নিন হালকা রঙের লিপস্টিক দিয়ে লিপ ব্রাশের সাহায্যে। এখন গাঢ় রঙের লিপস্টিক আউটলাইন বরাবর সারা ঠোঁটে লাগালে ঠোঁট অনেক ভরাট দেখাবে।

দুইকোণা চাপা ভরাট ঠোঁটের জন্য
যাদের ঠোঁট এরকম তারা সব-সময় হালকা রঙের লিপস্টিক লাগাবেন। এছাড়া যে রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করতে চান সেই লিপস্টিক লিপব্রাশে দুইকোণ বাড়িয়ে মানানসই আউট লাইন আঁকুন। এবার মাঝারি বা হালকা রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করে ঠোঁট ভরাট করুন। এভাবে করলে উজ্জ্বল গাঢ় রঙের লিপস্টিক ও লিপগ্লস লাগাবেন।

ফোলা ঠোঁটের জন্য
যাদের ঠোঁট ফোলা ধরনের তারা ঠোঁট মানানসই করার জন্যে ঠোঁটের প্রকৃত সীমারেখা বরাবর বা সামান্য কমিয়ে আউট লাইন আঁকুন। ঠোঁটের দু’কোণায় আউট লাইন মেলাবে না, সামান্য ফাঁক রাখবেন। এবার গাঢ় বা মাঝারি রঙের লিপস্টিকে ঠোঁট ভরাট করুন। ভরাট ঠোঁটে কখনো লিপগ্লস ব্যবহার করবেন না।

প্রসারিত ঠোঁটের জন্য
প্রসারিত ঠোঁটের জন্য আউট লাইন আঁকুন হালকা রঙের লিপস্টিক লিপ ব্রাশ দিয়ে। দুই কোণায় সামান্য ফাঁক রাখবেন। যে রঙের লিপস্টিক দিয়ে ঠোঁট ভরাট করুন না কেন, তা ঠোঁটের মাঝের অংশে লাগান গভীর করে ও দুই পাশে লাগান অপেক্ষাকৃত হালকা করে।

লিপগ্লসের ব্যবহার-
এখন লিপগ্লাসের ব্যবহার বেশি হচ্ছে। গরমের দিনে দিনের বেলা হালকা লিপগ্লসের আবেদন বেশি। গাঢ় রঙের লিপগ্লস রাতে ব্যবহার করা ভাল। লিপগ্লসের রঙ বেছে নেবেন মূল লিপস্টিকের রঙের কাছাকাছি শেডে। বর্ণহীন লিপগ্লস সব রঙের লিপস্টিকের ওপর লাগানো যায়। লিপগ্লস দুই রকমের পাওয়া যায়। স্টিক লিপগ্লস ও লিক্যুইড লিপগ্লস। স্টিক লিপগ্লস সরাসরি লিপস্টিক লাগানো ঠোঁটে লাগানো যায়। আর তুলির সাহায্যে লিক্যুইড লিপগ্লস ঠোঁটে লাগাতে হয়।

ডায়েট করতে গিয়ে যে কাজগুলো কখনই করবেন না


অনেকেই হয়ত জানেন, কিন্তু যারা জানেন না তারা দেখে নিতে পারেন ডায়েটের কোন ভুলগুলো আজীবনের জন্য আপনার স্বাস্থ্য আর সৌন্দর্য নষ্ট করে দিতে পারে।
১। শর্করা একদম বাদ দেবেন না যেনঃ
শর্করা আমাদের দেহের সবচেয়ে দরকারি খাদ্যের একটি। আপনার যদি রেগুলার ভাত বা রুটি খেয়ে অভ্যাস থাকে তবে ক্রাশ ডায়েটের চক্করে একদিনেই সব খাওয়া বাদ দেবেন না যেন। তাহলে হঠাৎ করেই নিজেকে দুর্বল লাগতে থাকবে। সাথে সাথে ব্লাড প্রেশারে উঠানামাও হতে পারে। ডায়েটে গেলে রোজ এককাপ লাল চালের ভাত বা দুটি লাল আটার রুটি খান।
২। চিনিও দরকারিঃ
না না, চামচ ভর্তি করে চিনি খেতে বলছি না। আপনি কি জানেন আমাদের মস্তিষ্ক পুরোপুরি গ্লুকোজের ফুয়েলে চলে? আর গ্লুকোজ আমরা পাই চিনি বা অন্য কোন শর্করার সোর্স থেকে। আপনার মস্তিষ্ক যাতে ঠিকমত কাজ করতে পারে আর আপনার ডায়েট প্ল্যানও যাতে ধ্বংস না হয় সেজন্য বিভিন্ন ফল, মধু ইত্যাদি খাবারের তালিকায় রাখুন।
৩। কিছু না খেয়ে কয়েক বেলা কাটিয়ে দেবেন নাঃ
এই বদ অভ্যাস আমার নিজের ছিল। এক বেলা না খেয়ে থেকে মনে করতাম নিশ্চয়ই ওজন এক কেজি কমে গেছে! কিন্তু আপনি যত কম খাবেন আপনার শরীর তত বেশি ফ্যাট জমা করবে, কারণ আপনার না খেয়ে থাকার অভ্যাসের জন্য আপনার শরীর বুঝতে পারবে না যে নেক্সট সে আবার কখন খাবার পাবে। সাথে সাথে কমবে মেটাবলিসম। যে কারণে অনেক ডায়েট করেও ওজন কমাতে পারবেন না। মেটাবলিসম হার ঠিক রাখার জন্য আপনার সারাদিনের খাবার সমান ভাগ করে দিনে ৬ ভাগে খান। ২-৩ ঘণ্টার বেশি কিছু না খেয়ে থাকবেন না।
৪। কথার ফাঁদে পা দেবেন নাঃ
আজকাল অনেকেই শুনি স্লিমফাস্ট, স্লিমক্যাল আর বিভিন্ন স্লিমিং টি আর ক্যাপসুল খেয়ে ১ সপ্তাহ বা ১ মাসে ১০-১৫ কেজি ওজন কমানোর স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সত্যি কথা বলতে গেলে এসবের বেশিরভাগই হয় কোন ধরনের লাক্সাটিভ (যা বার বার মলত্যাগে বাধ্য করে)। এতে আপনার শরীর আপনি যা খান তা থেকে দরকারি পুষ্টি পায় না। এতে করে খুব দ্রুত চুল পড়তে থাকে আর স্কিন নষ্ট হয়ে যায়। আর লং টার্ম সাইড ইফেক্টে বন্ধ্যাত্ব আর কিডনি ফেইলিওর হওয়া খুবই কমন। তাই আরেকবার ভাবুন,
১ সপ্তাহে ওজন কমানোর জন্য আপনি কি আপনার কিডনি দিতে পারবেন? জানি ফিল্মি শোনাচ্ছে কিন্তু যারা কিছু না জেনে মনের আনন্দে টাকা দিয়ে বিষ কিনে খাচ্ছে তাদের আর কোন ভাবে কিছু বোঝানো যায় না।
৫। চোখ বন্ধ করে ডায়েট প্ল্যান ফলো করবেন নাঃ
অনেকে আছেন ফেসবুকে যেখানে যে ডায়েট প্ল্যান পান সাথে সাথে সেটা ফলো করেন। মনে রাখবেন একেক জনের শরীর  একেক ধরনের। এজন্য আমরা সাজগোজে কোন ডায়েট প্ল্যান দিলে বারবার ডাক্তারের সাথে কথা বলে নেবার কথা মনে করিয়ে দেই। আচ্ছা বলুনতো আপনার শরীরে কী সমস্যা এটা ফেসবুকে কমেন্ট করে প্রশ্ন করলে কীভাবে সেখানে কেউ সিরিয়াসলি উত্তর দেবে?
আমার যা মনে আসে তাই যদি আমি বলি আর আপনি যদি তাই ফলো করে বিশাল কোন সমস্যায় পড়েন তাহলে? “অমুকের কাছে শুনে এই ডায়েট করছি” বা “ তমুকে বলেছে এটায় নাকি কাজ হয়” এসব পথে চিন্তা বাদ দিন। আপনার শরীর আপনার চেয়ে ভালো কেউ চেনে না। আমরা সাজেসট করতে পারি মাত্র।

নারকেলের স্যান্ডউইচ রেসিপি


বিকেলে বা সকালে ঝটপট ও স্বাস্থ্যকর নাশতার আয়োজন করতে গিয়ে প্রায়ই বিপাকে পড়তে হয়। এই ঝামেলা থেকে মুক্তির জন্য ঝটপট তৈরি করতে পারেন নারকেলের স্যান্ডউইচ।জেনে নিন কী কী উপকরণ লাগবে এই রেসিপিতে এবং কীভাবে তৈরি করবেন সুস্বাদু এই স্যান্ডউইচ।

উপকরণঃ
ছানা এক টেবিল চামচ,
নারকেল এক টেবিল চামচ,
আদা কুচি আধা চা চামচ,
সরিষা দানা আধা চা চামচ,
পরিমাণমতো,
পাউরুটি চার টুকরো ও
লবণ স্বাদমতো।


প্রস্তুত প্রণালিঃ
প্রথমে একটা বাটিতে ছানা, নারকেল, আদা কুচি ও লবণ ভালো করে মিশিয়ে নিন। এখন একটি প্যানে সামান্য তেল দিন।এবার একটি পাউরুটির ওপর এই মিশ্রণ দিয়ে অন্য পাউরুটি দিয়ে ঢেকে প্যানের তেলের মধ্যে দিন। এর ওপর সামান্য সরিষা দানা ছড়িয়ে পাউরুটির দুই পাশ বাদামি করে ভেজে নিন।
এবার চুলা থেকে নামিয়ে প্লেটে তুলে টমেটো সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন দারুণ সুস্বাদু নারকেল স্যান্ডউইচ।

শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

কর্মজীবী নারীদের জন্য পারফেক্ট হেয়ার স্টাইল স্লিক ভিক্সেন!!!!!!!!

আমরা মেয়েরা আমাদের চুলে বিভিন্ন ধরণের স্টাইল করতে পছন্দ করি। অনুষ্ঠান ভেদে আমাদের হেয়ার স্টাইলের মধ্যেও কিন্তু অনেক তফাৎ থাকে। বিয়ের মত জমকালো অনুষ্ঠানগুলোতে চুলে চাই গর্জিয়াস লুক। অথচ আমাদের মধ্যে যারা অফিস, আদালতে বিভিন্ন ধরণের জবে নিযুক্ত আছি, কর্মক্ষেত্রে আমাদের হেয়ারে প্রয়োজন ফরমাল লুক।
এমনই এক অফিস হেয়ার স্টাইল হচ্ছে স্লিক ভিক্সেন হেয়ার স্টাইল। চলুন দেখে নিই, কীভাবে এই হেয়ার স্টাইলটি করা যায়-

১। প্রথমে চুল ভালভাবে আঁচড়ে নিন। দরকার হলে কিছুটা স্ট্রেইট করে নিন। তারপর ডানপাশের কানের উপর থেকে চুল নিয়ে আলাদা করে ছবিতে যেভাবে দেখানো হয়েছে সেভাবে ববিপিন দিয়ে আটকে নিন।
স্লিক ভিক্সেন 1

২। এবার বামপাশের কানের উপর থেকে চুলগুলো টেনে ৩ নাম্বার ছবির মত করে টুইস্ট করুন। টুইস্ট করা চুল দিয়ে এবার একটি পনিটেইল করুন।
স্লিক ভিক্সেন 2

৩। তারপর দুই কানের নিচের অবশিষ্ট চুল টেনে পনিটেইলের উপরে ৫ নাম্বার ছবির মত করে পেঁচিয়ে নিন। পেঁচিয়ে পনিটেইল করে পিন দিয়ে আটকে নিন।
স্লিক ভিক্সেন 3
ব্যাস হয়ে গেলো ফরমাল লুকের অফিস হেয়ার স্টাইল।
স্লিক ভিক্সেন 4

এই স্লিক ভিক্সেন পনিটেইল হেয়ার স্টাইলটি করার সময় চুল টেনে টেনে করতে করতে হয়। তাই বলে খুব বেশি টেনে করবেন না। এতে চুলের ক্ষতি হতে পারে এবং চুলের গোড়া ব্যাথা হয়ে যেতে পারে।

পিরিয়ড অনিয়মিত হচ্ছে, নিয়মিত করার কিছু টিপস


অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা যে কোন বয়সের নারীদের মাঝেই দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে যারা অবিবাহিত, তাঁদের মাঝে বেশি দেখা যায় এই সমস্যা। অনিয়মিত পিরিয়ডের কারণে সন্তান ধারণে সমস্যা সহ হতে পারে আরও নানান রকমের শারীরিক সমস্যা। কিন্তু কী করবেন? জেনে নিন অনিয়মিত পিরিয়ডকে নিয়মিত করা ২টি দারুণ ঘরোয়া চিকিৎসা। দুটোর মাঝে যে কোন একটি পালন করুন মাত্র ১ মাস। পিরিয়ডের সমস্যা চিরকালের জন্য দূরীভূত হবে। আর এই চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে আদা, দারুচিনি, দুধের মত সাধারণ ও সহজলভ্য সব উপাদান।

আদার ব্যবহার

বহু গুণের এই আদা কেবল সর্দি কাশি সারাতেই কাজে লাগে না, পিরিয়ডকে নিয়মিত করতেও এর জুড়ি নেই। কীভাবে ব্যবহার করবেন এই আদা?
– ১ কাপ পানি নিন। এতে ১ চা চামচ মহি আদা কুচি ৫ থেকে ৭ মিনিট ফুটিয়ে নিন।
– সামান্য চিনি বা মধু যোগ করুন।
– এই পানীয়টি পান করুন দিনে ৩ বার, খাবার খাওয়ার পর।
– ১ মাস নিয়মিত পান করুন, পিরিয়ড নিয়মিত হয়ে যাবে নিশ্চিত।

দারুচিনিতে হবে জাদু

পিরিয়ডকে নিয়মিত করতে দারুচিনি আরেকটি দারুণ কার্যকরী উপাদান। এই দারুচিনি ব্যবহার করে পিরিয়ড জনিত ব্যথা হতেও মুক্তি পেতে পারবেন আপনি। কীভাবে ব্যবহার করবেন?আধা চামচ দারুচিনি গুঁড়ো যোগ করুন এক গ্লাস দুধে। সাথে দিতে পারেন মধু। এই মিশ্রণ পান করুন ৪ থেকে ৫ সপ্তাহ। পিরিয়ড নিয়ে সমস্যা কেটে যাবে।
-পান করতে পারেন দারুচিনি চা, দৈনিক এক টুকরো দারুচিনি চিবালেও কাজে দেবে। তবে খেয়াল রাখবেন, দারুচিনি যেন হয় খাঁটি।

বিয়ের দিনে নিজেকে সুন্দর দেখানোর ৬টি টিপস


বিয়ের দিনে নিজেকে সুন্দর দেখানোর ৬টি গোপন টিপস-

১। মেকআপে ন্যাচারাল লুকঃ
পারফেক্ট বিয়ের সাজের মূলমন্ত্র হলো, একেবারেই ন্যাচারাল লুক মনে হয় এমন একটি সাজ বেছে নেয়া। কেননা ঐতিহ্যগত ভাবেই বাংলাদেশের কনেরা বেশ জমকালো শাড়ী ও গহনা পরে থাকেন।
তাই সাজটাও যদি অতিরিক্ত জমকালো হয় তাহলে পুরোই জবরজং লাগতে পারে। তাই বিউটিশিয়ানকে বলুন যাতে ন্যাচারাল মনে হয় এমন একটি সাজে সাজিয়ে দিতে। শুধু মুখই নয় গলা, হাত, পা সমানভাবে সাজিয়ে দিতে বলুন। নয়তো মুখের ত্বকের তুলনার গলা, হাত, পা বেমানান দেখাবে।

২। মেকাপের পর কয়েকটি ছবি তুলে দেখুনঃ
মেকআপ করার পর বিয়ের সাজেই কয়েকটি ছবি তুলে ফেলুন। ছবিতে দেখুন কোন অংশটি খারাপ দেখাচ্ছে, মেক আপ সব জায়গায় ঠিক মত বসেছে কিনা, কোন অংশ বেশি সাদা মনে হচ্ছে কিনা। সেক্ষেত্রে শুধরে নেবার সময় থাকবে। তাই হাতে যথেষ্ট সময় নিয়ে পার্লারে সাজতে যাবেন।

৩। বিয়ের আগে ত্বকের যত্নঃ
বিয়ের সপ্তাহ খানেক আগেই ত্বকের বিশেষ যত্ন নেয়া শুরু করুন। হাত পায়ের ওয়াক্সিং, ফেসিয়াল, চুলের ট্রিটমেন্ট আগেই করে ফেলুন। নয়তো বিয়ের আগে একসাথে সব কাজ করতে গেলে এগুলো আপনার গোটা সাজকেই মাটি করে দিতে পারে।বিয়ের ঠিক এক বা দু দিন আগে ভ্রু প্লাক করুন। বিয়ের দিন সাজার সময় ভ্রু প্লাক করতে গেলে সেখানে দ্রুত মেকআপ করার সময় ভ্রুর জায়গাটিতে যন্ত্রণা, চুলকানি, লাল হয়ে যাবার মত সমস্যা হতে পারে। যা আপনার সুন্দর লুককে নষ্ট করে দেবার জন্যে যথেষ্ট।

৪। কনট্যাক্ট লেন্স পরে নিন মেকআপের আগেইঃ
আপনি যদি চোখের রঙ পরিবর্তনের জন্যে অন্য কনট্যাক্ট লেন্স পরতে চান, তাহলে তা মেকআপ করার আগেই পরে ফেলুন। কেননা, কনট্যাক্ট লেন্স পরার সময় চোখ থেকে কয়েক ফোঁটা পানি পড়তে পারে, যা আপনার চোখের মেকআপ এর ক্ষতি করতে পারে।

৫। পোষাক ও গহনা নির্বাচনে সচেতন থাকুনঃ
পোষাকের ফেব্রিক, রঙ ও গহনা নির্বাচনে সচেতন থাকুন। অন্য কাউকে এই রঙ বা ধরনের পোষাক ভালো লেগেছে বলেই যে আপনাকেও ভালো লাগবে এমন কোন কথা নেই। তাই চেষ্টা করুন আপনাকে মানায় এমন ফেব্রিকের ও রঙের পোষাক ও গহনা পরতে।

৬। তৈলাক্ত খাবার ও মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুনঃ
আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না যে, বিয়ের দিন আপনার মুখে ব্রণ বা র্যাশ থাকুক। তাই নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেয়ার পাশাপাশি ফাস্টফুড, কোল্ড ড্রিঙ্কস, ভাজাভুজি ও মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন। প্রচুর ফল ও সবজি খান ও মেডিটেশন করুন। বিয়ের অনুষ্ঠানের আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুমাবার চেষ্টা করুন। এতে আপনার ত্বকে ব্রণ বা অন্য কোন সমস্যা হবার সম্ভাবনা কমে যাবে এবং মেকআপ ত্বকে খুব সুন্দরভাবে বসবে।