সোমবার, ৩১ জুলাই, ২০১৭

গোলমরিচের নানা উপকারিতা

১/শীতের সময় সর্দি-কাশির সমস্যা খুবই সাধারন। শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে গোলমরিচ।

২/এছাড়াও জ্বরের সময় ঘাম ঝরিয়ে জ্বর কমাতে সাহায্য করে গোলমরিচ। গলা ব্যাথা কমাতেও গোলমরিচ বেশ কার্যকর। তাই ঠাণ্ডা লাগলে এক বাটি গরম সুপে ছিটিয়ে দিন টাটকা গোলমরিচের গুঁড়ো।

৩/গোলমরিচে উপস্থিত পিপেরিন নামক উপাদান স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৪/গোলমরিচের পিপেরিন শরীরের নিউট্রিশন অ্যাবজর্ব করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

৫/গোলমরিচ ফ্যাট সেল ভেঙে ওজন কমাতে সাহায্য করে। এর সাথে সাথে গোলমরিচ অতিরিক্ত ক্যালরি বার্ন করার জন্য এনার্জিও সরবরাহ করে।

৬/মুখের অরুচি দূর করতে আয়ুর্বেদে গোলমরিচ খেতে বলা হয়। এজন্য আধা চাচামচ গোলমরিচ গুঁড়োর সাথে এক টেবিল চামচ গুড় মিশিয়ে খেতে হবে।

৭/খাবার হজমেও সাহায্য করে গোলমরিচ। গোলমরিচ জিভের টেস্টবাডসগুলোকে সক্রিয় করে বলে পাকস্থলি থকে হাইড্রোক্লরিক এসিড নিঃসৃত হয়ে খাবার হজমে সাহায্য করে।

৮/গ্যাস্ট্রিক বা পেট ফাঁপার সমস্যা থাকলে খাবারে শুকনো মরিচের ব্যবহার কমিয়ে গোলমরিচ ব্যবহার করুন। এছাড়াও একচিমটি জিরে গুঁড়ো, গোলমরিচ গুঁড়ো ও বিটলবন মিশিয়ে খেতে পারেন। তারপরে অবশ্যই এক গ্লাস পানি খেতে হবে।

৯/গোলমরিচে রয়েছে ডায়রিয়া, কলেরা ও আথ্রাইটিস প্রতিরোধের ক্ষমতা। এটি সারকুলেশন বৃদ্ধি করে জয়েন্ট পেইন কমাতে সাহায্য করে।

১০/গোলমরিচের পিপেরিন সেরেটোনিন বৃদ্ধি করে বলে এটি ডিপ্রেশন কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পিপেরিন ব্রেনের বেটা-এন্ডরফিন্স বৃদ্ধি করারসাথেসাথে মেনটাল ক্ল্যারিটি বৃদ্ধি করে। তাছাড়াও এন্ডরফিন প্রাকৃতিক পেইন কিলার ও মুড এলিভেটর হিসেবেও কাজ করে। এতে করে স্ট্রেস ও টেনশন দূর হয়।

১১/দাঁতে ব্যাথা, মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, মুখের দুর্গন্ধ এসবের প্রাকৃতিক চিকিৎসা হিসেবে খেতে পারেন গোলমরিচ। পানির মধ্যে গোলমরিচ ভালো করে ফুটিয়ে নিয়ে, পানিটা ঠাণ্ডা করে নিন। এরপরে এই পানি দিয়ে কুলকুচি করুন।

১২/গোলমরিচে থাকা প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেনট প্রি-ম্যাচিউর স্কিন এজিং যেমন- ফাইন লাইন, রিঙ্কল, ডার্ক স্পট প্রতিরোধ করে। তাই দামি ব্র্যান্ডের কসমেটিক্স এর পেছনে গাদা গাদা টাকা খরচ না করে আপনার প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখুন গোলমরিচ।

১৩/শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন বের করতে সাহায্য করে গোলমরিচ।
রান্নায় গোলমরিচ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে জেনে নিন কয়েকটি ঝটপট উপায়।

১৪/স্টেক জাতীয় খাবার কোটিং এর সময় একটু গোলমরিচ ছিটিয়ে দিন এক্সট্রা ক্রাঞ্চের জন্য।

১৫/অলিভ অয়েল, গোলমরিচ, লেবু আর এক চিমটি লবন মিশিয়ে বানাতে পারেন দারুন স্বাদের সালাদ ড্রেসিং।

১৬/খাবার টেবিলেই রাখুন একটি মিনি গ্রিনডার আর খাবারে ছিটিয়ে দিন টাটকা গোলমরিচ গুঁড়ো।
তাহলে জানলেন তো গোলমরিচের নানা গুনের কথা। এবার আর দেরি না করে আজ থেকেই খাবারের মেনুতে যোগ করুন গোলমরিচ। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

রবিবার, ৩০ জুলাই, ২০১৭

আমড়ার চাটনি রেসিপি

যা যা লাগবে
আমড়ার ২ কাপ,
-সরিষার তেল আধা কাপ,
-মরিচ গুঁড়া আধা চামচ,
-চিনি স্বাদমতো,
-হলুদ গুঁড়া সামান্য,
-আস্ত পাঁচফোড়ন ১ চা চামচ,
-শুকনামরিচ স্বাদমতো,
-তেজপাতা ১টি,
-ভিনেগার ৩ টেবিল চামচ,
-লবণ স্বাদমতো।

যেভাবে করবেন
-আমড়া টুকরো করে প্রেশার কুকারে নিয়ে হলুদ ও লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে নিন।
-সেদ্ধ হলে পানি ছেঁকে নিতে হবে।
-চালনি দিয়ে চেলে আমড়ার আঁশ বাদ দিয়ে ক্বাথ আলাদা করতে হবে।
-প্যানে তেল গরম করে আস্ত পাঁচফোড়ন, শুকনামরিচ, তেজপাতা ভাঁজতে থাকুন।
-পাঁচফোড়ন ফুটতে শুরু করলে আমড়ার ক্বাথ দিয়ে একে একে মরিচ গুঁড়া, চিনি, স্বাদমতো লবণ ও ভিনেগার দিয়ে নাড়তে থাকুন।
-তেল ছেড়ে আসলে নামিয়ে আনলেই হল সুস্বাদু আমড়ার চাটনি।
-ঠাণ্ডা করে বয়ামে ভরে রাখুন, আবার ফ্রিজেও রাখতে পারেন।

শনিবার, ২৯ জুলাই, ২০১৭

ত্বকের যত্নে কমলার তৈরী কার্যকরী ফেসপ্যাক

কমলা, মধু ও হলুদ

ত্বকের ক্লান্তি দূর করতে পারে এই ফেসপ্যাক। ১ টেবিল চামচ কমলার রসের সঙ্গে ১ চা চামচ মধু ও ১ চিমটি হলুদ মেশান। ভালো করে পেস্ট তৈরি করে ত্বকে লাগান। আধা ঘণ্টা পর ধুয়ে মুছে নিন ত্বক।

কমলার খোসা গুঁড়া ও দই

এই ফেসপ্যাক ত্বকের রুক্ষতা দূর করে নরম ও কোমল করে ত্বক। প্রথমেই কমলার খোসা রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে নিন। ১ চা চামচ কমলার খোসা গুঁড়ার সঙ্গে ১ টেবিল চামচ ঠাণ্ডা দই মেশান। ভালো করে নেড়ে পেস্ট তৈরি করুন। পাতলা করে ত্বকে লাগান ফেসপ্যাকটি। আধা ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন।

কমলার খোসা গুঁড়া ও দুধ

ত্বকের ভেতর থেকে ময়লা দূর করার পাশাপাশি ব্রণ দূর করতেও সাহায্য করবে এই ফেসপ্যাক। ১ টেবিল চামচ কমলার খোসা গুঁড়ার সঙ্গে দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি পরিষ্কার ত্বকে লাগিয়ে রাখুন না শুকানো পর্যন্ত। শুকিয়ে গেলে সামান্য পানি ছিটিয়ে স্ক্রাব করে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ত্বক।

কমলার খোসা গুঁড়া, গোলাপজল ও চন্দন

রোদে পোড়া দাগ দূর করতে খুবই কার্যকর এই ফেসপ্যাক। ১ চা চামচ কমলার খোসা গুঁড়ার সঙ্গে সমপরিমাণ চন্দন গুঁড়া মেশান। গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। নরম ব্রাশের সাহায্যে পাতলা করে মুখ ও গলার ত্বকে লাগান মিশ্রণটি। ২০ মিনিট পর ত্বক ধুয়ে মুছে নিন।

কমলার রস, আখরোট ও ওট

মরা চামড়া দূর করে ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর করতে ব্যবহার করতে পারেন এই ফেসপ্যাক। ১ চা চামচ আধা-ভাঙা আখরোট ও ১ চা চামচ ওট গুঁড়ার সঙ্গে পরিমাণ মতো কমলার রস মিশিয়ে তৈরি করুন পেস্ট। ত্বকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন মিশ্রণটি। ২ মিনিট স্ক্রাব করে ত্বক ধুয়ে মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭

মোরগ পোলাও রেসিপি

উপকরন

পোলাওচাল ৩ কাপ
পানি ৬ কাপ
গুড়া দুধ ১/২ কাপ ( গুঁড়া দুধ না দিলে ৫ কাপ পানি র ১ কাপ তরল দুধ দিবেন )
কাঁচামরিচ ১০-১২ টি
তেজপাতা ১ টি
দারচিনি ছোট ২ টুকরা
এলাচ ২ টি টি
আস্ত জিরা ১/৪ চামচ
চিনি ১ টে চামচ
লেবুর রস ১ চা চামচ
পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ মুঠো
লবন স্বাদমত
কেওড়া জল সামান্য- ঐচ্ছিক

মাংসের জন্য লাগবে

মুরগীর মাংস ৮-১০ পিস (আমি ৩টা থাইসহ চিকেন লেগ নিয়েছি)
মিষ্টি দই ১ কাপ
পেঁয়াজ কুচি মাঝারি ১ টি
আদাবাটা ৩ টে চামচ
পেয়াজ বাটা ৫ টে চামচ
রসুন বাটা ২ টে চামচ
কাঁচামরিচ বাটা ২ চা চামচ
গরম মশলা গুড়া ১/২ চা চামচ (গরম মশলার রেসিপি )
ঘি ১/৩ কাপ
তেল ১/৩ কাপ
( আমি সাথে ২ টা সেদ্ধ ডিম দিয়েছিলাম। আপনারা চাইলে দিতে পারেন )

প্রনালি

১। আপনি আপনার পছন্দ মতো মাংস কেটে নিতে পারেন। চাইলে ছোট করে কেটে বা বড় বড় পিস্ ও রাখতে পারেন। প্রথমে মাংস টাকে ১ চামচ করে আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ বাটা এবং দই,পরিমান মত লবন দিয়ে কমপক্ষে ১০-১৫ মিনিত মেখে রাখুন। বাকিটা আমরা পরে দিবো। সাথে একটা বাটিতে চাল ও ৪ কাপ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন মোটামুটি ২৫ থেকে ৩০ মিনিটের জন্য। পরে পানি ঝরিয়ে রাখবেন। চাল যদি ভিজিয়ে রাখেন তাতে সুবিধা হলো রান্নার পর ভাত গুলা লম্বা ও ঝরঝরা হয়। ঘি ও তেল একসাথে গুলিয়ে রাখুন।

২। কড়াইতে তেল ও ঘিয়ের মিশ্রণ অর্ধেকটা গরম করে তাতে পেঁয়াজকুচি দিয়ে সোনালী করে ভেজে নিন তারপর এতে বাকি যে বাটা ও গুড়া মশলা ছিল তা দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। মশলা থেকে তেল বের হয়ে গেলে এতে মাংস দিয়ে আবার কষান ৪-৫ মিনিট । এই সময়েই মাংস থেকে বের হওয়া পানিতেই মাংস অর্ধেক সেদ্ধ হয়ে যাবে। তারপর এক কাপ পানি দিয়ে আঁচ মাঝারি করে ঢেকে দিন। পানি শুকিয়ে ঝোল গাঢ় ও তেল উপরে উঠলে নামিয়ে নিতে হবে। যদি ডিম দিতে চান তো মাংস নামানোর মিনিট দুয়েক আগে দিলেই চলবে।

৩। মাংস হতে থাক এই ফাঁকে চাল টা ভুনে নিন। হাড়িতে ঘি+তেলের বাকি মিশ্রন দিয়ে তাতে জিরা, তেজপাতা ও বাকি গোটা গরম মশলা ফোঁড়ন দিয়ে চাল যোগ করুন। তারপর মিনিট ২-৩ ধরে ভুনে পানি, গুড়া দুধ ও লবন দিন। পানিটা আগে থেকে গরম করা থাকলে ভালো হয়। বলোক আসার আগে পর্যন্ত চাল চামচ দিয়ে ধীরে ধীরে নাড়তে থাকুন তাহলে তেল ও ঘি চালের সাথে মিশে যাবে। চাল আধফোটা হলে লবন চেক করে নিন। যদি এই পর্যায়ে লবন ঠিক থাকে তাহলে রান্নার পর আলুনি লাগবে। তাই এই পর্যায়ে লবণতা চড়া হলে রান্নার পর দেখবেন পারফেক্ট লবন হয়েছে।

৪। চাল যখন ৮০ % সেদ্ধ হয়ে যাবে ও পানি টেনে আসবে তখন এর উপর দিয়ে কাঁচামরিচ, বেরেস্তা, ও ঝোলসহ মাংস ঢেলে সমান করে বিছিয়ে দিন। চাইলে কয়েকটা কাজু বাদাম ও কেওড়া জল দিতে পারেন। তারপর আঁচ একদম ঢিমে করে দিয়ে ভালকরে ঢেকে দমে দিয়ে দিন দিন। ২০ মিনিট পর ঢাকনা খুলে লেবুর রস ছড়িয়ে সবকিছু হাল্কা করে মিশিয়ে নামিয়ে নিন। সালাদ দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। আমি সাথে ঘরে পাতা দই ও রুই মাছের কাবাব দিয়ে পরিবেশন করেছিলাম।

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৭

ঘরেই করে নিন হারবাল ফেসিয়াল

১ম ধাপ- ত্বক পরিস্কার করুন-

প্রথমেই ত্বক পরিষ্কার করে নিন ভালো করে। কোনো সাবান বা ফেস ওয়াস দিয়ে নয়। পানির ঝাপটা দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এরপর এক টুকরো টমেটো ত্বকে ঘষে নিয়ে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের উপরভাগের ময়লা দূর হবে।

২য় ধাপ- ত্বক স্ক্রাব করুন-

প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের স্ক্রাবার তৈরি করে স্ক্রাব করে নিন। একটি বাটিতে আধ কাপ নারিকেল তেল নিয়ে এতে ২ টেবিল চামচ চিনি ও ১ টেবিল চামচ লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপর এই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে আঙ্গুলে ডগা দিয়ে হালকা করে ম্যাসাজ করে নিন ১০ মিনিট। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ভালো করে।

৩য় ধাপ- ত্বকে লাগান ফেইস প্যাক-

ত্বকে ঘরে তৈরি একটি ফেইস প্যাক লাগিয়ে ফেলুন। একটি বাটিতে একটি পাকা কলা নিয়ে কাঁটা চামচ দিয়ে পিষে নিন। এতে একটি গোটা টমেটোর রস চিপে দিন। এরপর এতে যোগ করুন ১ চা চামচ অলিভ অয়েল। ভালো করে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এটা মুখে লাগিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট। এই সময়ে চোখে শসার কুচি দিয়ে শুয়ে থাকতে পারেন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে হালকা ঘষে তুলে ফেলুন। ও মুখ ভালো করে ধুয়ে মুছে ফেলুন।

৪র্থ ধাপ- ত্বকে লাগান টোনার-

মুখ মুছে ফেলে ত্বকে টোনার লাগান। এটাও প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই করে ফেলুন। কাঁচা দুধে একটি তুলোর বল ডুবিয়ে নিয়ে ত্বকে ঘষুন। ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এবং ত্বক মুছে ফেলুন।

৫ম ধাপ- ত্বকে ময়েসচারাইজার ম্যাসাজ করুন-

এই ধাপে একটি ভালো ময়েসচারাইজার ব্যবহার করতে হবে। প্রাকৃতিক সবচেয়ে ভালো ময়েসচারাইজার হচ্ছে অলিভ অয়েল এবং বাটার। ১ চা চামচ অলিভ অয়েল কিংবা বাটার হাতে নিয়ে ১০ মিনিট মুখে ভালো করে ম্যাসাজ করুন। ব্যস হয়ে গেল আপনার ফেসিয়াল করা। মাসে বেশ কয়েক বার করতে পারেন এই ফেসিয়াল। কারন এতে ত্বকে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হবে না। বরং ত্বক থাকবে সুন্দর ও স্বাস্থ্য উজ্জ্বল।

বুধবার, ১২ জুলাই, ২০১৭

ফুচকা তৈরির সহজ রেসিপি

মচমচে পুরি তৈরি

• আটা বাঁ ময়দা : ১/২কাপ
• মিহি সুজি : ১/২কাপ
• লবন : ১/৪ চা চামচ
• বেকিং সোডা বা খাবার সোডা : সামান্য পরিমানে বা ১/৪ চাম্মচ থেকেও কম
• পানি : ১/২ কাপ বা কম

পানি বাদে সব উপকরন মিশিয়ে নিন ।
অল্প অল্প করে পানি মিশিয়ে কিছুটা নরম খামির বানিয়ে নিন।খামির কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন ৩০ মিনিট ।
খামির ৩ ভাগ করে নিন ।
একভাগ নিয়ে পিড়িতে ময়দা ছিটিয়ে আস্তে আস্তে কিছুটা পাতলা রুটি বানিয়ে নিন ।
বোতলের ঢাকনা বাঁ গোল কোন কাটার দিয়ে ছোট ছোট পুরি কেটে নিন ।
পুরিগুলো ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন ।
কড়াইতে তেল দিয়ে গরম করে নিন ।
ফুটন্ত তেলে পুরি ছেড়ে চামচ দিয়ে চেপে ধরুন ।
পুরি ফুলে উঠলে মাঝারি আচে বাদামি করে ভাজুন ।
তেল ফুটন্ত হতে হবে নয়ত পুরি ফুলবেনা ।
ঠান্ডা করে এয়ার টাইট জারে রাখুন ।
১৫ দিনও ভালো থাকবে এটি ।

পুর তৈরি

• আলু : ২কাপ ( সিদ্ধ ও ভর্তা করা )
• কাচামরিচ কুচি : ১ টেবিল চামচ
• ধনেপাতা কুচি : ২ টেবিল চামচ
উপরের সব উপকরন এক সাথে মিশিয়ে নিন ।

জিরা পানি তৈরি

• তেতুলের কাথ : ৩ টেবিলচামচ
• পানি : ১কাপ
• ভাজা জিরা গুড়ো : ১ টেবিলচামচ
• টালা শুকনা মরিচ গুড়ো : ১ টেবিল চামচ বা ইচ্ছেমতো
• চিনি : ২ টেবিল চামচ
• বিট লবন : পরিমানমত
উপরের সব উপকরন এক সাথে মিশিয়ে নিন ।
এখন এক টি করে ফুচকা নিয়ে একপাশে কিছুটা ভেংগে নিন । ভেতরে পুর দিয়ে জিরা পানি দিয়ে পরিবেশন করুন । চাইলে ঝুরিভাজা ছিটিয়ে নিন ।

টিপস

ফুচকাগুলো ফুলে উঠার জন্য অবশ্যই তেল ফুটন্ত হতে হবে আর পুরিগুলো কাটার সাথেসাথে তেলে ছাড়তে হবে নতুবা ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন।নয়ত পুরি ফুলবেনা ।
ফুচকা ফুলার জন্য বা ক্রিস্পি হয়ার জন্য তালমাখানা জরুরী না ।

মঙ্গলবার, ১১ জুলাই, ২০১৭

মোরগ পোলাও রেসিপি

উপকরন

পোলাওচাল ৩ কাপ
পানি ৬ কাপ
গুড়া দুধ ১/২ কাপ ( গুঁড়া দুধ না দিলে ৫ কাপ পানি র ১ কাপ তরল দুধ দিবেন )
কাঁচামরিচ ১০-১২ টি
তেজপাতা ১ টি
দারচিনি ছোট ২ টুকরা
এলাচ ২ টি টি
আস্ত জিরা ১/৪ চামচ
চিনি ১ টে চামচ
লেবুর রস ১ চা চামচ
পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ মুঠো
লবন স্বাদমত
কেওড়া জল সামান্য- ঐচ্ছিক

মাংসের জন্য লাগবে

মুরগীর মাংস ৮-১০ পিস (আমি ৩টা থাইসহ চিকেন লেগ নিয়েছি)
মিষ্টি দই ১ কাপ
পেঁয়াজ কুচি মাঝারি ১ টি
আদাবাটা ৩ টে চামচ
পেয়াজ বাটা ৫ টে চামচ
রসুন বাটা ২ টে চামচ
কাঁচামরিচ বাটা ২ চা চামচ
গরম মশলা গুড়া ১/২ চা চামচ (গরম মশলার রেসিপি )
ঘি ১/৩ কাপ
তেল ১/৩ কাপ
( আমি সাথে ২ টা সেদ্ধ ডিম দিয়েছিলাম। আপনারা চাইলে দিতে পারেন )

প্রনালি

১। আপনি আপনার পছন্দ মতো মাংস কেটে নিতে পারেন। চাইলে ছোট করে কেটে বা বড় বড় পিস্ ও রাখতে পারেন। প্রথমে মাংস টাকে ১ চামচ করে আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ বাটা এবং দই,পরিমান মত লবন দিয়ে কমপক্ষে ১০-১৫ মিনিত মেখে রাখুন। বাকিটা আমরা পরে দিবো। সাথে একটা বাটিতে চাল ও ৪ কাপ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন মোটামুটি ২৫ থেকে ৩০ মিনিটের জন্য। পরে পানি ঝরিয়ে রাখবেন। চাল যদি ভিজিয়ে রাখেন তাতে সুবিধা হলো রান্নার পর ভাত গুলা লম্বা ও ঝরঝরা হয়। ঘি ও তেল একসাথে গুলিয়ে রাখুন।

২। কড়াইতে তেল ও ঘিয়ের মিশ্রণ অর্ধেকটা গরম করে তাতে পেঁয়াজকুচি দিয়ে সোনালী করে ভেজে নিন তারপর এতে বাকি যে বাটা ও গুড়া মশলা ছিল তা দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। মশলা থেকে তেল বের হয়ে গেলে এতে মাংস দিয়ে আবার কষান ৪-৫ মিনিট । এই সময়েই মাংস থেকে বের হওয়া পানিতেই মাংস অর্ধেক সেদ্ধ হয়ে যাবে। তারপর এক কাপ পানি দিয়ে আঁচ মাঝারি করে ঢেকে দিন। পানি শুকিয়ে ঝোল গাঢ় ও তেল উপরে উঠলে নামিয়ে নিতে হবে। যদি ডিম দিতে চান তো মাংস নামানোর মিনিট দুয়েক আগে দিলেই চলবে।

৩। মাংস হতে থাক এই ফাঁকে চাল টা ভুনে নিন। হাড়িতে ঘি+তেলের বাকি মিশ্রন দিয়ে তাতে জিরা, তেজপাতা ও বাকি গোটা গরম মশলা ফোঁড়ন দিয়ে চাল যোগ করুন। তারপর মিনিট ২-৩ ধরে ভুনে পানি, গুড়া দুধ ও লবন দিন। পানিটা আগে থেকে গরম করা থাকলে ভালো হয়। বলোক আসার আগে পর্যন্ত চাল চামচ দিয়ে ধীরে ধীরে নাড়তে থাকুন তাহলে তেল ও ঘি চালের সাথে মিশে যাবে। চাল আধফোটা হলে লবন চেক করে নিন। যদি এই পর্যায়ে লবন ঠিক থাকে তাহলে রান্নার পর আলুনি লাগবে। তাই এই পর্যায়ে লবণতা চড়া হলে রান্নার পর দেখবেন পারফেক্ট লবন হয়েছে।

৪। চাল যখন ৮০ % সেদ্ধ হয়ে যাবে ও পানি টেনে আসবে তখন এর উপর দিয়ে কাঁচামরিচ, বেরেস্তা, ও ঝোলসহ মাংস ঢেলে সমান করে বিছিয়ে দিন। চাইলে কয়েকটা কাজু বাদাম ও কেওড়া জল দিতে পারেন। তারপর আঁচ একদম ঢিমে করে দিয়ে ভালকরে ঢেকে দমে দিয়ে দিন দিন। ২০ মিনিট পর ঢাকনা খুলে লেবুর রস ছড়িয়ে সবকিছু হাল্কা করে মিশিয়ে নামিয়ে নিন। সালাদ দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। আমি সাথে ঘরে পাতা দই ও রুই মাছের কাবাব দিয়ে পরিবেশন করেছিলাম।

সোমবার, ১০ জুলাই, ২০১৭

কপালে ব্রন থেকে মুক্তির উপায়

১) লেবুর রসের ব্যবহার

ব্রণ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে লেবুর রসের চাইতে সহজ সমাধান অন্য কোথাও নেই। কয়েক ফোঁটা লেবুর রসই কপালের ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম যদি আপনি নিয়মিত ব্যবহার করে যেতে পারেন। রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে তাজা লেবুর রস ব্রণের উপরে লাগিয়ে ঘুমিয়ে যান। সকালে ত্বক ভালো করে ধুয়ে নিন।
লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া জনিত ব্রণ সমস্যার সমাধান করবে, এছাড়াও লেবু তৈলাক্ততা দূর করতে কার্যকরী বলে তৈলাক্ত মাথার ত্বকের কারণে ব্রণ হওয়ার সমস্যা সমাধান করবে। তবে আপনার ত্বক লেবুর কারণে অ্যালার্জি প্রবণ হয় তাহলে ব্যবহার না করাই ভালো’।

২) সরিষা গুঁড়ো ও মধুর ব্যবহার

যদি এক রাতের মধ্যে কপালের এই বিরক্তিকর ব্রণ দূর করতে চান তাহলে খুব ভালো উপায় হচ্ছে সরিষাগুঁড়ো। সরিষাগুঁড়োতে রয়েছে স্যালিসাইলিক এসিড যা খবুই কার্যকরী ব্রণ সমস্যা সমাধানে। কিছু সরিষা দানা নিয়ে গুঁড়ো করে এতে মধু ভালো করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এই প্যাক ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন ব্রণের উপরে। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে নিন এবং ঘুমুতে চলে যান। সকালে ব্রণের ফোলাভাব অনেকটা কমতে দেখবেন।

৩) টমেটোর ব্যবহার

কপালের ব্রণ সমস্যা সমাধানে টমেটোও অনেক কার্যকরী। এর জন্য আপনাকে কিছুই করতে হবে না, শুধুমাত্র একটি টমেটো কেটে স্লাইস করে নিয়ে, একটি স্লাইস দিয়ে ব্রণের উপরটা ঘষে নিন। এভাবে দিনে দুবার করুন। দেখবেন কপালের ব্রণের ঝামেলাটা কিছুদিনের মধ্যেই মিলিয়ে যাবে।

রবিবার, ৯ জুলাই, ২০১৭

চিকেন রেজালা তৈরির রেসিপি

উপকরণ

৭ সে.মি আদা কুচি
৫টি লবঙ্গ
১ চা চামচ সাদা গোল মরিচ গুঁড়ো
লবণ
৮টি মুরগির টুকরো

বাদামের পেস্ট

১ টেবিল চামচ কাজুবাদাম
১ চা চামচ সাদা পেঁপের বিচ

সস তৈরির জন্য

২ টেবিল চামচ ঘি
৪টি এলাচ
দারুচিনি
১ চা চামচ কালো গোলমরিচ
১ চা চামচ ধনিয়া
৩টি পেঁয়াজ কুচি
৩টি তেজপাতা
৪টি লবঙ্গ
৩টি কাঁচা মরিচ
৩-৪ টেবিল চামচ টকদই
২ চা চামচ চিনি (ইচ্ছা)
১/২ টেবিল চামচ গোলাপজল
এক চিমটি জাফরান
১ লিটার দুধ

সাজানোর জন্য

২ টেবিল চামচ তেল
১/২টা পেঁয়াজের রিং
৪টি শুকনো লাল মরিচ
লবণ
ধনিয়া

প্রণালী

১। একটি পাত্রে মুরগির মাংস, লবণ, সাদা গোল মরিচ গুঁড়ো, আধা চা চামচ আদা রসুনের পেস্ট এবং দুই টেবিল চামচ টকদই একসাথে মিশিয়ে এক ঘন্টা মেরিনেট করে রাখুন।

২। ব্লেন্ডারে কাজুবাদাম এবং পেঁপের বীজ একসাথে ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন। প্রয়োজনে এতে কিছুটা পানি মেশান।

৩। একটি প্যানে ঘি গরম করতে দিন। ঘি গরম হয়ে এলে এতে কালো গোলমরিচ, এলাচ, লবঙ্গ, দারুচনিন, তেজপাতা এবং ধনিয়া দিয়ে দিন।

৪। সবগুলো উপাদান ৩০ সেকেন্ড ভাজুন। এরপর এতে কাঁচা মরিচ, কাজুবাদাম এবং পেঁপের বীচের পেস্ট দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়ুন।

৫। টকদই দিয়ে আবার কিছুক্ষণ নাড়ুন। এরপর সসের মধ্যে মুরগির মাংসের টুকরোগুলো দিয়ে দিন।

৬। ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ৩০-৪০ মিনিট রান্না করুন।

৭। মুরগি সিদ্ধ হয়ে এলে এতে জাফরান দুধ, চিনি, গোলাপজল দিয়ে দিন। যদি কিছুটা ঝোল রাখতে চান তবে এরসাথে কিছুটা গরম পানি মেশাতে পারেন।

৮। লাল শুকনো মরিচ এবং পেঁয়াজ বেরেস্তা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার চিকেন রেজালা।

শনিবার, ৮ জুলাই, ২০১৭

ঘরেই তৈরি করুন মাংসের মসলা

যা যা লাগবে

    • এলাচি,
    • দারচিনি,
    • তেজপাতা,
    • ধনিয়া,
    • জিরা ।
    • শাহী জিরা ।
    • জয়েত্রি ।
    • জয়ফল ।
    • গোলমরিচ সাদা এবং কালো ।
    • লবঙ্গ ।
    • তারকা মৌরী (অপশনাল), এক কেজী মাংসের জন্য ২ টী যথেষ্ট।
    • পোস্তদানা ।
    • আস্ত শুকনো মরিচ ।
    • মৌরি ।
    • কালো এলাচ।

যেভাবে তৈরি করবেন

নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী আর আন্দাজ মতো সব উপকরন কড়াইতে নিয়ে টেলে গুড়ো করে নিন।
টালার সময় খেয়াল করবেন যাতে মশলা গুলো বেশি টালা না হয়ে যায় অথবা পুড়ে না যায়। আমি কফি গ্রাইন্ডারে গুড়ো করি।

শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০১৭

বেগুন ভেজানো পানি খেলে কমবে ভুঁড়ি

বেগুনের পানিকে ‘মিরাক্যল ওয়াটার’ও বলা হয়ে থাকে। শুধু ওজন কমানো নয়, এই পানি আপনার এনার্জি লেভেলকেও বুস্ট আপ করবে।
বেগুনে আছে অনেক পুষ্টিগুণ। পাশাপাশি এর ক্যালোরি কাউন্ট বেশ কম। তাই বেগুন আপনাকে মোটা না করেই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করে তুলবে। বেগুনে ফাইবার বেশি থাকায় ডায়াবিটিকদের জন্যও বেগুন বেশ ভালো। কনস্টিপেশনের সমস্যা থাকলেও নিয়মিত বেগুনের পানি আপনার জন্য অত্যন্ত উপকারী।

জেনে নিন, কীভাবে বানাবেন বেগুনের পানি

একটা মাঝারি মাপের বেগুন ভালো করে ধুয়ে চাকা চাকা করে কেটে নিন (খোসাসুদ্ধ)। একটা কাঁচের জারে বেগুনের টুকরোগুলো পরপর সাজিয়ে রাখুন। এক লিটার পানির মধ্যে ঢেলে দিন। একটা মাঝাপি মাপের পাতিলেবু নিংড়ে পুরোটা রস এর মধ্যে মিশিয়ে দিন। চামচ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে সারা রাত ফ্রিজে রেখে দিন।
পরের দিন ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনারের আগে এক কাপ করে এই পানি খান। সারা দিনে এক কাপ করে এই পানি খাবেন। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে ফল পাবেন। বেশি উপকার পাওয়ার ক্ষেত্রে সবুজে ভরসা না রেখে বেগুনি বেগুনেই বেশি ভরসা রাখুন। বেগুনি রঞ্জকটিই ওজন কমাতে বিশেষ উপকারী।