মঙ্গলবার, ২৯ মে, ২০১৮

রাতের রূপচর্চায় ৩টি অত্যাবশ্যকীয় কাজ


বিরূপ আবহাওয়া, অযত্ন-অবহেলার কারণে অনেকের নিখুঁত স্নিগ্ধ ত্বক হারিয়ে যায়। নিখুঁত সুন্দর ত্বক একধরণের স্বপ্নের মতোই মনে হয়। এ সমস্যাগুলো থেকে সহজেই ত্বকের যেকোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
স্কিন এক্সপার্ট হুমায়রা জানান, ‘প্রতিরাতে যদি সামান্য একটু যত্ন নেয়া হয় তাহলে খুব সহজেই ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব। একটু সচেতনতাই ব্রণ, ত্বকের রুক্ষতা এবং অন্যান্য নানা সমস্যা দূরে রাখতে পারে।

তিনটি কাজের মাধ্যমে সম্ভব এই সমস্যাগুলি কিছুটা কমিয়ে নেয়া –

প্রথমত, রাতে বাসায় ফিরে অবশ্যই ত্বক পরিষ্কার করে নেবেন। কেননা ত্বকের নানা সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে অপরিষ্কার ত্বক, তাই যত জলদি সম্ভব বাসায় ফিরেই ত্বক ভালমত পরিষ্কার করে নেয়া উচিৎ। ত্বক যত অপরিষ্কার থাকবে ততোই সমস্যা বাড়তে থাকবে। তাই প্রতি রাতে বাসায় ফিরে অবশ্যই ভালো করে ত্বক পরিষ্কার করে নেবেন।


ভাল ও আপনার ত্বকের সাথে মানানসই কোন ফেসওয়াস দিয়ে ত্বক ধুয়ে নিয়ে ত্বক স্ক্রাব করে উপরের ময়লা দূর করে নিন। এরপর একটি সাধারণ বা প্রাকৃতিক কোনো টোনার দিয়ে ত্বক আরও ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। কাঁচা দুধ খুব ভালো টোনার হিসেবে কাজ করে। দুধ লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে ত্বক ধুয়ে ফেলুন।
দ্বিতীয়ত, ফেস প্যাক মানে ভারী কোনো ফেস প্যাক নয়। প্রতিদিন রাতে ব্যবহারের জন্য দুধ মধুর হালকা ফেস প্যাকই যথেষ্ট। এতে ত্বকের কোমলতা ফিরে আসে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতাও বজায় থাকে। যাদের ত্বক রুক্ষ তারা দুধ ও মধু মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
আবার যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা লেবুর রস ও মধু ব্যবহার করতে পারেন আর যারা একটু উজ্জ্বলতা চান তারা হলুদ গুঁড়ো ও দুধ ব্যবহার করে প্যাক তৈরি করতে পারেন। মাত্র ২০ মিনিট ব্যবহার করেই ধুয়ে ফেললে ত্বকের যত্ন নেয়া শেষ।

তৃতীয়ত, সঠিক খাবার রাতের খাবারের কারণে অনেক সময় ত্বকের সমস্যা দেখা যায় বলে জানান হুমায়রা। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘রাতের ভারী খাবার হজম না হওয়ার কারণে অনেকেরই ব্রণ সমস্যা দেখা দেয়’। তাই রাতে হালকা খাবার খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সেই সাথে পান করা উচিত অন্তত ২ গ্লাস পানি।

সোমবার, ২৮ মে, ২০১৮

ইফতারি রেসিপি : ঘরে বসেই তৈরি করুন ফালুদা


রমজান এসে গেছে, এখন ইফতারে থাকা চাই ঠাণ্ডা জাতীয় খাবার। এ সময় রাখতে পারেন বিভিন্ন ফলের তৈরি ফালুদা। এটি স্বাস্থ্যকর একটি ঠাণ্ডা জাতীয় সুস্বাদু খাবার। ফালুদা সাধারণত রেস্টুরেন্টে বেশিরভাগ খাওয়া হয়। কিন্তু আপনি চাইলে ঘরে বসেই নিজের হাতে বানিয়ে ইফতারের আয়োজনে রাখতে পারেন মজাদার ফালুদা। দেখে নিন রেসিপি-

উপকরণঃ
 ১) দুধ এক লিটার।
২) স্ট্রবেরি জেলি এক কাপ।
৩) ফালুদা বীজ এক চামচ।
৪) সাবুদানা দুই কাপ।
৫) নুডুলস (এটা ফালুদার জন্য তৈরি, বাজারে পাওয়া যায়)।
৬) পেস্তা কুচি, আমন্ড কুচি, কাজুবাদাম কুচি এক চামচ।
৭) ভ্যানিলা আইসক্রিম দুই চামচ।
৮) বিভিন্ন পদের ফল (কলা, আপেল, আঙ্গুর, বেদনা ইত্যাদি)
৯) চিনি ও লবণ স্বাদ মতো।
১০) কয়েক টুকরা দারুচিনি, কয়েকটা এলাচি।
১১) পানি পরিমাণ মতো।

প্রণালিঃ

প্রথমে একটি পাত্রে দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিন। ফালুদা বীজ আলাদাভাবে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর অন্য একটি পাত্রে নুডুলস ও সাবুদানা সিদ্ধ করে নিন। সিদ্ধ হয়ে গেলে এতে ঘন দুধ, এলাচ, দারুচিনি, চিনি, লবণ দিয়ে নাড়তে থাকুন। এদিকে আলাদাভাবে বিভিন্ন ফল কেটে রাখুন।
এবার একটি পাত্রে ফালুদা বীজ নিয়ে সিদ্ধ করা উপকরণগুলো দিয়ে নিন। এর উপরে কাটা ফলগুলো সহ পেস্তাকুচি, আমন্ডকুচি ও কাজুবাদাম ছিটিয়ে দিয়ে স্ট্রবেরি জেলি দিয়ে দিন। সবার উপরে ভ্যানিলা আইসক্রিম দিয়ে গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন।
ফ্রিজে কিছুক্ষণ রেখে পরিবেশন করতে পারেন।

মুখের উজ্জ্বলতা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করুন সহজ ৪ টি প্রাকৃতিক উপায়ে


প্রতিটা মানুষ জন্মগ্রহণের সময় সুন্দর ত্বক নিয়েই পৃথিবীতে আসে। ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখার দায়িত্ব শিশুর অভিভাবকের এবং ব্যক্তির নিজের। বিভিন্নভাবে আপনি আপনার ত্বকের ক্ষতি করছেন। কিন্তু ভয় পাবেন না, কারণ ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করেই উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় ত্বক পাওয়া সম্ভব।। চলুন তাহলে সেই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো সম্পর্কে জেনে নিই।

১। কলার খোসা –
কলা খাওয়ার পরে খোসাটা ফেলে দেয়াই আমাদের সবার অভ্যাস কারণ ত্বকের উপর কলার খোসার জাদুকরি প্রভাবের কথা অনেকেই জানেন না। এখন থেকে কলার খোসা ফেলে না দিয়ে এর ভেতরের সাদা অংশটুকু মুখে ও ঘাড়ে ভালো করে ঘসে ঘসে লাগান। ২০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ব্যবহারের ফলে আপনার ত্বক উজ্জ্বল হবে। ভালো ফল পাওয়ার জন্য সপ্তাহে কয়েকবার এটি ব্যবহার করুন।

২। মধু ও লেবু –
মধু ও লেবুর সমন্বয়ে তৈরি ফেস প্যাক ত্বক ফর্সা করতে পারে। সমপরিমাণ মধু ও লেবুর রস নিয়ে ভালোভাবে মেশান। এই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। যদি আপনার ত্বক শুষ্ক হয়ে থাকে তাহলে মধু ও শশার রস ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও মধুর সাথে সমপরিমাণ দুধ মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারে। যদি আপনার ত্বক তৈলাক্ত হয় তাহলে লো ফ্যাট দুধ ব্যবহার করুন। এই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পরে বৃত্তাকারে ম্যাসাজ করুন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৩। টমেটো –
প্রতিমাসে একবার স্পেনের লা টোমাটিনা ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ করতে পারলে ফর্সা ও উজ্জ্বল ত্বক পাওয়া সহজ হত। টমেটোতে ত্বকের বর্ণ হালকা করার উপাদান আছে। এটি ত্বকের তেল শোষণ করে এবং ত্বকের উন্মুক্ত ছিদ্রের নিরাময় করে। আপনার ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ টমেটো থেঁতলে নিয়ে মুখে ও শরীরের অন্যান্য স্থানে লাগান। শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৪। চন্দন –
প্রাচীন কাল থেকেই ত্বক ফর্সা করতে ব্যবহার হয়ে আসছে চন্দনের গুঁড়া যাকে কেউ হারাতে পারেনি। চন্দন ও হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এর সাথে কাঠ বাদামের তেল মিশাতে পারেন। তারপর মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগান। কিছুক্ষণ পরে বৃত্তাকারে ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটির ব্যবহারে আপনার ত্বকের বর্ণ হালকা হবে এবং আপনার মুখের দ্যুতি ছড়াবে।
সব কিছুর শেষ কথা হচ্ছে ক্লিঞ্জিং, টোনিং ও ময়শ্চারাইজিং এই ৩ টির সমন্বয় ছাড়া ত্বক ভালো রাখা সম্ভব নয়। CTM রুটিন ঠিকভাবে অনুসরণ করলেই আপনি আপনার ত্বককে খুব বেশি তামাটে হয়ে যাওয়া রোধ করতে পারবেন। ত্বকের উজ্জ্বলতা অটুট রাখার জন্য ঘরের বাহিরে যাওয়ার পূর্বে ভালমানের সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না যেনো।
আপনার ত্বকে গোলাপি আভা এনে দেবে।