রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

ডায়েট করতে গিয়ে যে কাজগুলো কখনই করবেন না


অনেকেই হয়ত জানেন, কিন্তু যারা জানেন না তারা দেখে নিতে পারেন ডায়েটের কোন ভুলগুলো আজীবনের জন্য আপনার স্বাস্থ্য আর সৌন্দর্য নষ্ট করে দিতে পারে।
১। শর্করা একদম বাদ দেবেন না যেনঃ
শর্করা আমাদের দেহের সবচেয়ে দরকারি খাদ্যের একটি। আপনার যদি রেগুলার ভাত বা রুটি খেয়ে অভ্যাস থাকে তবে ক্রাশ ডায়েটের চক্করে একদিনেই সব খাওয়া বাদ দেবেন না যেন। তাহলে হঠাৎ করেই নিজেকে দুর্বল লাগতে থাকবে। সাথে সাথে ব্লাড প্রেশারে উঠানামাও হতে পারে। ডায়েটে গেলে রোজ এককাপ লাল চালের ভাত বা দুটি লাল আটার রুটি খান।
২। চিনিও দরকারিঃ
না না, চামচ ভর্তি করে চিনি খেতে বলছি না। আপনি কি জানেন আমাদের মস্তিষ্ক পুরোপুরি গ্লুকোজের ফুয়েলে চলে? আর গ্লুকোজ আমরা পাই চিনি বা অন্য কোন শর্করার সোর্স থেকে। আপনার মস্তিষ্ক যাতে ঠিকমত কাজ করতে পারে আর আপনার ডায়েট প্ল্যানও যাতে ধ্বংস না হয় সেজন্য বিভিন্ন ফল, মধু ইত্যাদি খাবারের তালিকায় রাখুন।
৩। কিছু না খেয়ে কয়েক বেলা কাটিয়ে দেবেন নাঃ
এই বদ অভ্যাস আমার নিজের ছিল। এক বেলা না খেয়ে থেকে মনে করতাম নিশ্চয়ই ওজন এক কেজি কমে গেছে! কিন্তু আপনি যত কম খাবেন আপনার শরীর তত বেশি ফ্যাট জমা করবে, কারণ আপনার না খেয়ে থাকার অভ্যাসের জন্য আপনার শরীর বুঝতে পারবে না যে নেক্সট সে আবার কখন খাবার পাবে। সাথে সাথে কমবে মেটাবলিসম। যে কারণে অনেক ডায়েট করেও ওজন কমাতে পারবেন না। মেটাবলিসম হার ঠিক রাখার জন্য আপনার সারাদিনের খাবার সমান ভাগ করে দিনে ৬ ভাগে খান। ২-৩ ঘণ্টার বেশি কিছু না খেয়ে থাকবেন না।
৪। কথার ফাঁদে পা দেবেন নাঃ
আজকাল অনেকেই শুনি স্লিমফাস্ট, স্লিমক্যাল আর বিভিন্ন স্লিমিং টি আর ক্যাপসুল খেয়ে ১ সপ্তাহ বা ১ মাসে ১০-১৫ কেজি ওজন কমানোর স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সত্যি কথা বলতে গেলে এসবের বেশিরভাগই হয় কোন ধরনের লাক্সাটিভ (যা বার বার মলত্যাগে বাধ্য করে)। এতে আপনার শরীর আপনি যা খান তা থেকে দরকারি পুষ্টি পায় না। এতে করে খুব দ্রুত চুল পড়তে থাকে আর স্কিন নষ্ট হয়ে যায়। আর লং টার্ম সাইড ইফেক্টে বন্ধ্যাত্ব আর কিডনি ফেইলিওর হওয়া খুবই কমন। তাই আরেকবার ভাবুন,
১ সপ্তাহে ওজন কমানোর জন্য আপনি কি আপনার কিডনি দিতে পারবেন? জানি ফিল্মি শোনাচ্ছে কিন্তু যারা কিছু না জেনে মনের আনন্দে টাকা দিয়ে বিষ কিনে খাচ্ছে তাদের আর কোন ভাবে কিছু বোঝানো যায় না।
৫। চোখ বন্ধ করে ডায়েট প্ল্যান ফলো করবেন নাঃ
অনেকে আছেন ফেসবুকে যেখানে যে ডায়েট প্ল্যান পান সাথে সাথে সেটা ফলো করেন। মনে রাখবেন একেক জনের শরীর  একেক ধরনের। এজন্য আমরা সাজগোজে কোন ডায়েট প্ল্যান দিলে বারবার ডাক্তারের সাথে কথা বলে নেবার কথা মনে করিয়ে দেই। আচ্ছা বলুনতো আপনার শরীরে কী সমস্যা এটা ফেসবুকে কমেন্ট করে প্রশ্ন করলে কীভাবে সেখানে কেউ সিরিয়াসলি উত্তর দেবে?
আমার যা মনে আসে তাই যদি আমি বলি আর আপনি যদি তাই ফলো করে বিশাল কোন সমস্যায় পড়েন তাহলে? “অমুকের কাছে শুনে এই ডায়েট করছি” বা “ তমুকে বলেছে এটায় নাকি কাজ হয়” এসব পথে চিন্তা বাদ দিন। আপনার শরীর আপনার চেয়ে ভালো কেউ চেনে না। আমরা সাজেসট করতে পারি মাত্র।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন