মেয়েদের মাসিকের সময় তলপেটে ব্যথা আমাদের দেশে একটা সাধারণ ব্যাপারই
বলতে হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় এ ব্যাথার পরিমাণ যখন এমন হয়
যে তা দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত করে, তখনই কেবল এটাকে অসুস্থতা বা
ডিজমেনোরিয়া বলে গণ্য করা হয়। কিন্তু একটু সচেতন হলেই এই ব্যথা এড়িয়ে
চলা যায়।

কোন বোতলে গরম পানি ভরে বা কাপড় গরম করে তলপেটে ২০/২৫ মিনিট ছ্যাক লাগাতে হবে। এটা সপ্তাহে টানা ৩/৪ দিন করে করতে হবে। এতে ধীরে ধীরে মাসিকের সময় ব্যাথা কমে যাবে।

৩ মিনিট গরম পানিতে কোমর ডুবিয়ে বসে থাকতে হবে। পরের ২/১ মিনিট ঠাণ্ডা পানিতে। এভাবে ২০/২৫ মিনিট সিজ বাথ নিতে হবে। এটাও সপ্তাহে টানা ৩/৪ দিন নিতে হবে। শুধু পানি বা পানিতে কিছু লবন, বেকিং সোডা বা ভিনেগারও ব্যবহার করা যায়।
প্রচুর পানি পান করুনঃ
মাসিকের সময় পেটে ব্যাথা অনুভূত হলে প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন। কারন এসময় দেহে পানি শূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই খাবারের আগে পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং পানীয় জাতিয় খাবার গ্রহন করুন। বিশেষ করে ভিটামিন এবং মিনারেলে ভরপুর খাবার খান।
দুধ পান করুনঃ
মাসিকের সময় শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়। এসময়ে প্রতিদিন এক গ্লাশ করে দুধ পান করুন। তবে যাদের পেটে দুধ সহ্য হয় না, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট গ্রহন করতে পারেন।
গরম পানির ছ্যাকা দিনঃ
বাজারে গরম পানি ছ্যাকা দেয়ার জন্য বিশেষ ব্যাগ পাওয়া যায়। এগুলোতে গরম পানি ঢুকিয়ে তারপর পেটে ছ্যাকা দিন। এতে ব্যাথা কিছুটা হলেও কমতে পারে। তবে খেয়াল রাখবেন গরম যেন সহনীয় মাত্রায় হয়।
আদাঃ
মাসিকের সময় আদা বেশ কাজে দেয়। লাল চা এর সাথে আদা সহযোগে পান করুন। অথবা আদার প্যাক তৈরি করে দৈনিক দু তিনবার চা এর সাথে পান করুন।
ল্যাভেন্ডার অয়েলঃ
মাসিরকের সময় ১০-১৫ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল নিয়ে পেটে মালিশ করে দিন। এতে সাময়িক সময়ের জন্য পেটের ব্যাথা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
ধনে বীজ ব্যবহার করুনঃ
যদি সম্ভব হয় তাহলে ধনে বীজ যোগাড় করে সেটা গরম পানি সহযোগে পান করুন। এতে মাসিকের সময় পেটে ব্যাথা নিরাময়ে বেশ উপকার পেতে পারেন।
এ্যলোভেরার রসঃ
এ্যলোভেরার রসের সাথে মধু মিশিয়ে একটি জুস তৈরি করে ফেলুন। মাসিকের ব্যাথার সময় এটি পান করুন। দিনে কয়েকবার এটি পান করুন। ব্যথা অনেকখানি কমিয়ে দেবে এই পানীয়টি।
পেঁপে ব্যাবহার করুনঃ
মাসিকের ব্যাথা রোধের জন্য পেঁপে খাওয়া বেশ কার্যকরী। মাসিকের সময় নিয়মিত কাঁচা পেঁপে খান। কাঁচা পেঁপে মাসিকের ব্যাথা কমিয়ে দেয়।
গাজরের রস ব্যবহার করুনঃ
এক গ্লাস গাজরের রস আপনাকে দীর্ঘক্ষণ পেটে ব্যথা থেকে মুক্তি দেবে। মাসিক চলাকালীন প্রতিদিন এক গ্লাস গাজরের রস পান করার চেষ্টা করুন।
কফি এড়িয়ে চলুনঃ
কফিতে শরীরে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী ক্যাফেইন থাকে। এতে পেটের ব্যাথা অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই কফি পান এড়িয়ে চলুন।
সপ্তাহ বলতে মানে প্রতি সপ্তাহে টানা ৩/৪ দিন। মাসিক হোক বা না হোক। যখন ব্যথা হয়, তখনও ছ্যাক নিতে পারেন।
কোন ঔষধ কি খাওয়া যাবে?
আগে ডাক্তার দেখাতে হবে, তারপর ব্যথার ধরণ বুঝে ঔষধের ব্যবস্থা করতে হবে। মাসিকের ব্যাথার জন্য “গরম পানির ব্যাগ” ব্যবহার করবেন, আর বেশী পানি খাবেন, এতে রক্ত জমাট না বেধে সাধারন প্রক্রিয়ায় বের হবে । ভিতরে আগুল দিয়ে পরিস্কার করবেন না , পরিস্কার প্যাড ও কাপড় ব্যবহার করবেন , যাদের সব সময় ধাতু বের হয় তাদের সাধারনত মাসিকের সময় ব্যাথা হয় ।
আমার মাসিকের সময় যখন ব্যথা করে তখন পেইন কিলার ঔষধ খাই, এতে কি কোন ক্ষতি হবে?
এটা কোন স্থায়ী সমাধান নয়। খুব পেইন হলে ঔষধ খাওয়া যেতে পারে, তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে।
মাসিকে পেটে ব্যাথা সমাধান
নিচে মাসিকের সময় পেট ব্যাথা সমাধানের কিছু সহজ পদ্ধতি ছবি সহয় উপস্থাপন করা হলো –সাধারণ পদ্ধতিঃ

কোন বোতলে গরম পানি ভরে বা কাপড় গরম করে তলপেটে ২০/২৫ মিনিট ছ্যাক লাগাতে হবে। এটা সপ্তাহে টানা ৩/৪ দিন করে করতে হবে। এতে ধীরে ধীরে মাসিকের সময় ব্যাথা কমে যাবে।
সিজ বাথঃ

৩ মিনিট গরম পানিতে কোমর ডুবিয়ে বসে থাকতে হবে। পরের ২/১ মিনিট ঠাণ্ডা পানিতে। এভাবে ২০/২৫ মিনিট সিজ বাথ নিতে হবে। এটাও সপ্তাহে টানা ৩/৪ দিন নিতে হবে। শুধু পানি বা পানিতে কিছু লবন, বেকিং সোডা বা ভিনেগারও ব্যবহার করা যায়।
বিশেষ কিছু টিপস/পরামর্শ
মাসিকের সময় অনেক মেয়ে এবং মহিলার পেটে ব্যাথা হয়। ক্ষেত্র বিশেষে এই ব্যাথা অসহ্য পর্যায়ে চলে যায়, সেটা সহ্য করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যাথা নিরাময়ে বিশেষ কিছু টিপস নিচে উল্লেখ করা হলো –প্রচুর পানি পান করুনঃ
মাসিকের সময় পেটে ব্যাথা অনুভূত হলে প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন। কারন এসময় দেহে পানি শূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই খাবারের আগে পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং পানীয় জাতিয় খাবার গ্রহন করুন। বিশেষ করে ভিটামিন এবং মিনারেলে ভরপুর খাবার খান।
দুধ পান করুনঃ
মাসিকের সময় শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়। এসময়ে প্রতিদিন এক গ্লাশ করে দুধ পান করুন। তবে যাদের পেটে দুধ সহ্য হয় না, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট গ্রহন করতে পারেন।
গরম পানির ছ্যাকা দিনঃ
বাজারে গরম পানি ছ্যাকা দেয়ার জন্য বিশেষ ব্যাগ পাওয়া যায়। এগুলোতে গরম পানি ঢুকিয়ে তারপর পেটে ছ্যাকা দিন। এতে ব্যাথা কিছুটা হলেও কমতে পারে। তবে খেয়াল রাখবেন গরম যেন সহনীয় মাত্রায় হয়।
আদাঃ
মাসিকের সময় আদা বেশ কাজে দেয়। লাল চা এর সাথে আদা সহযোগে পান করুন। অথবা আদার প্যাক তৈরি করে দৈনিক দু তিনবার চা এর সাথে পান করুন।
ল্যাভেন্ডার অয়েলঃ
মাসিরকের সময় ১০-১৫ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল নিয়ে পেটে মালিশ করে দিন। এতে সাময়িক সময়ের জন্য পেটের ব্যাথা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
ধনে বীজ ব্যবহার করুনঃ
যদি সম্ভব হয় তাহলে ধনে বীজ যোগাড় করে সেটা গরম পানি সহযোগে পান করুন। এতে মাসিকের সময় পেটে ব্যাথা নিরাময়ে বেশ উপকার পেতে পারেন।
এ্যলোভেরার রসঃ
এ্যলোভেরার রসের সাথে মধু মিশিয়ে একটি জুস তৈরি করে ফেলুন। মাসিকের ব্যাথার সময় এটি পান করুন। দিনে কয়েকবার এটি পান করুন। ব্যথা অনেকখানি কমিয়ে দেবে এই পানীয়টি।
পেঁপে ব্যাবহার করুনঃ
মাসিকের ব্যাথা রোধের জন্য পেঁপে খাওয়া বেশ কার্যকরী। মাসিকের সময় নিয়মিত কাঁচা পেঁপে খান। কাঁচা পেঁপে মাসিকের ব্যাথা কমিয়ে দেয়।
গাজরের রস ব্যবহার করুনঃ
এক গ্লাস গাজরের রস আপনাকে দীর্ঘক্ষণ পেটে ব্যথা থেকে মুক্তি দেবে। মাসিক চলাকালীন প্রতিদিন এক গ্লাস গাজরের রস পান করার চেষ্টা করুন।
কফি এড়িয়ে চলুনঃ
কফিতে শরীরে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী ক্যাফেইন থাকে। এতে পেটের ব্যাথা অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই কফি পান এড়িয়ে চলুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
মাসিক চলাকালিন ছ্যাক নিব না আগে? সপ্তাহ বলতে কি পুরো মাস বুঝানো হয়েছে?সপ্তাহ বলতে মানে প্রতি সপ্তাহে টানা ৩/৪ দিন। মাসিক হোক বা না হোক। যখন ব্যথা হয়, তখনও ছ্যাক নিতে পারেন।
কোন ঔষধ কি খাওয়া যাবে?
আগে ডাক্তার দেখাতে হবে, তারপর ব্যথার ধরণ বুঝে ঔষধের ব্যবস্থা করতে হবে। মাসিকের ব্যাথার জন্য “গরম পানির ব্যাগ” ব্যবহার করবেন, আর বেশী পানি খাবেন, এতে রক্ত জমাট না বেধে সাধারন প্রক্রিয়ায় বের হবে । ভিতরে আগুল দিয়ে পরিস্কার করবেন না , পরিস্কার প্যাড ও কাপড় ব্যবহার করবেন , যাদের সব সময় ধাতু বের হয় তাদের সাধারনত মাসিকের সময় ব্যাথা হয় ।
আমার মাসিকের সময় যখন ব্যথা করে তখন পেইন কিলার ঔষধ খাই, এতে কি কোন ক্ষতি হবে?
এটা কোন স্থায়ী সমাধান নয়। খুব পেইন হলে ঔষধ খাওয়া যেতে পারে, তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন